সুস্থ থাকুন

ধনেপাতার নানা গুণ

যেকোনো খাবার পরিবেশনের সময় দেখতে সুন্দর করে তোলার জন্য আমরা ধনেপাতা ছড়িয়ে দিই। খাবারকে দেখতে ভাল লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে ধনেপাতা খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায়— এ কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু এই ধনেপাতারই কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে যা নানান শারীরিক সমস্যা দূর করে।
ত্বকের জ্বালা কমায় :‌ ত্বকের অ্যালার্জি থেকে হওয়া সমস্যায় খুব ভালো কাজ দেয় ধনেপাতা। ট্রন অ্যান্টি সিস্টেমাইল প্রপার্টিজ আছে এতে। তাই কোনো নির্দিষ্ট খাবার থেকে হওয়া অ্যালার্জি ও বিশেষত ঋতু পরিবর্তনের সময় হওয়া অ্যালার্জি কমায়। ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকরই জ্বর বা সর্দিকাশি দেখা যায়। এটাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় রাইনাইট্রিল। এ ছাড়াও যাদের গাছ বা ফুল থেকে অ্যালার্জি হয় বা পোকার কামড় থেকে অ্যালার্জি হয় তাও কমায় ধনেপাতা। এমনকী বিচুটি পাতা ত্বকে লাগলে যে চুলকানি হয় তাও কমায়।
ডায়ারিয়া :‌ ধনেপাতায় পাওয়া যায় এসেন্সিয়াল কম্পোনেন্ট বোরনিয়াল আর নিলালোল। হজমশক্তি বাড়ায়। লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। যাদের ইরেগুলার বাওয়েল সিন্ড্রোম আছে বা কনস্টিপেশনের সমস্যা আছে, তাদের ধনেপাতা খাওয়া উচিত। ডায়ারিয়া হলে খুব তাড়াতাড়ি সারায় ধনেপাতা। ধনেপাতা রস করে খেতে হয়। প্রচুর পরিমাণে সিমেল বোরনিয়াল লিমোনেনি থাকার কারণে। আলফা–টিনেনি এবং বিটা সেলানেব্রেন। সামনেই বর্ষাকাল। এই সময় জলঘটিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল প্রভাব শরীরে পড়তে দেয় না। নসিয়া বা মাথা ঘোরা ও বমি ভাব কমায়।
কোলেস্টেরল :‌ এই পাতা কোলেস্টেরল লেভেল কমায়। ধনেপাতায় প্রচুর পরিমাণে এসেন্সিয়াল অ্যাসিড পাওয়া যায়। যেমন লায়নোলিক অ্যাসিড, এলাই অ্যাসিড, পালমেটিক অ্যাসিড, স্টেরারিক অ্যাসিড ও ‌ভিটামিন সি‌। এলডিএল লেভেল কমাতে সাহায্য করে এই অ্যাসিড। এটি হার্টে রক্ত জমতে দেয় না। এ ছাড়াও হার্টের আর্টারির দেওয়ালে ফ্যাট জমতে দেয় না। ফলে স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচল করতে পারে। কমে যায় হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। এর সঙ্গে সঙ্গে এইচ ডি এল লেভেল বা গুড কোলেস্টেরল লেভেল বাড়ায়।
মাউথ আলসার :‌ মুখে ঘা ও পায়রিয়া কমায় ধনেপাতা। কারণ এসেন্সিয়াল অয়েল থাকে। সিট্রোনিলোল এটি খুব ভালো অ্যান্টিসেপ্টিকের কাজও করে। অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল ও হিলিং এফেক্ট থাকার জন্য যে কোনও কাটাছেঁড়া বা ক্ষত, দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত বেরনো, মুখের দুর্গন্ধ কমায়। বেশিরভাগ মাউথওয়াশ ধনেপাতার নির্যাস থেকে তৈরি হয়।
রক্ত তৈরি করে :‌ এই পাতার আরো একটি গুণ হল এটি রক্তাল্পতা কমায়। ধনেপাতায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকার কারণে অ্যানিমিয়াঘটিত যেকোনো সমস্যা অনেকটাই কমায়। আয়রন ট্যাবলেটের জায়গায় অনায়াসেই ধনেপাতা খাওয়া যেতে পারে।
হজমের গোলমাল কমায় :‌ খাওয়ার পর সামান্য ধনেপাতা খেলে হজমের সমস্যা কমে। ধনেপাতা পাকস্থলী, লিভার থেকে খাদ্যরস বের করে। ধনেপাতা খাদ্যরস বেরতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও যাদের খিদে কম বা ডাক্তারি ভাষায় যাঁরা অ্যানো রেক্সিয়ার রোগী তাদের খিদে বাড়ায় ধনেপাতা।
স্মল পক্স :‌ ভিটামিন সি আছে ধনেপাতায়। এটি চিকেন পক্স হতে দেয় না। এ ছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল, অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, অ্যান্টি ইনফেকশন, ডি টক্সিফাইন প্রপার্টিজ থাকার কারণে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
কনজাংটিভাইটিস :‌ ধনেপাতায় থাকে মিনারেল, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফসফরাস, ভিটাথ্যারোপেন। এগুলি চোখের সমস্যা দূর করে, কনজাংটিভাইটিস তাড়াতাড়ি সারায়।
স্কিন ডিজঅর্ডার :‌ গায়ের দুর্গন্ধ নিয়ে যারা সমস্যায় ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে বেশ কাজে দেয়। গায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। ডি টক্সিফাই করতে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক। ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর হয় ধনেপাতা ফোটানো জলে স্নান করলে । একজিমা যাঁদের আছে তাঁদের ত্বকের ক্ষেত্রে ক্ষত শুকোতে সাহায্য করে।
হাইপো থাইরয়েডদের ওজন কমায় :‌ হাইপো থাইরয়েডের কারণে যাঁদের অতিরিক্ত ওজন হয়ে গেছে, তারা সারাদিন খাবারের তালিকায় নানানভাবে ধনেপাতা খেতে পারেন। যারা ওজম কমাতে চাইছেন তাঁদের ক্ষেত্রে ধনেপাতা খুব উপকারী।
গলার ইনফেকশনঘটিত রোগে :‌ গলার যেকোনো সমস্যায় ধনেপাতা খুব ভালো কাজ করে। গলগণ্ডের ফোলা কমায় ধনেপাতা।
ব্লাড প্রেশার :‌ ধনেপাতা ও ধনেদানা ভিজিয়ে পানি খেতে পারলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। যারা হাইপার টেনশনে ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রেও উপকারী এই পাতা। ক্যালসিমায়ন সোলিনারজিক। নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। অ্যাসিটায়েল চকুলায়েন থাকার কারণে নার্ভাসনেস কমে। নার্ভের রোগ যেমন অ্যালজাইমারও কমায়।
হাড় শক্ত করে :‌ ধনেপাতায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে। এটি হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। ক্ষয়ে যাওয়া হাড়কে নতুন করে বাড়তে সাহায্য করে। যাদের অস্ট্রিও আরথ্রাইটিস বা অস্টিও পোরেসিস আছে, অস্টিও পেনিয়ার মতো হাড়ের রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে ধনেপাতা কাজ করে। দাঁতের ক্ষয়ের ক্ষেত্রেও খুব ভালো কাজ দেয়।
ধনেপাতা অতিরিক্ত খেলে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রোদের তেজ থেকে হওয়া র‌্যাশে ধনেপাতা না খাওয়াই ভালো।‌

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button