আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

দ্বিপক্ষীয় দলিলে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প-কিম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দুইজনই একটি দ্বিপাক্ষিক ‘সমন্বিত’ দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই দলিলটি দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি নাকি দুই দেশের মধ্যে মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপনের চুক্তি সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেল্লা হোটেলে বিরল এক বৈঠকের ওই নথিতে স্বাক্ষর করেন কিম-ট্রাম্প। এসময় ট্রাম্প বলেন, আমরা একসাথে অত্যন্ত ভালো একটা সময় পার করলাম। শিগগিরই এই চুক্তির ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দলিলটি স্বাক্ষর করার পর বলেন, উত্তর কোরিয়ার সাথে আমরা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলিলে স্বাক্ষর করেছি। তবে দলিলে কী আছে সেটা না বলে তিনি জানান, এটা সমন্বিত একটি দলিল। আপনারা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দেখতে পারবেন। মানুষ খুব খুশি হতে যাচ্ছে।
বিবিসি বলছে, দুই নেতা ঠিক কি বিষয়ের নথিপত্রে স্বাক্ষর করলেন তা জানা না গেলেও বলা হচ্ছে এটি ঐতিহাসিক ও সুসংহত।
ট্রাম্প-কিমের যৌথ ঘোষণার চারটি মূল পয়েন্ট চিহ্নিত করেছেন বিবিসি- ১. দুই দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া নিজেদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করেছে। ২. কোরীয় উপদ্বীপে টেকসই এবং স্থিতিশীল শান্তি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া একসাথে কাজ করবে। ৩. চলতি বছরের ২৭ এপ্রিলের পানমুনজোম ঘোষণা পুনর্নিশ্চিত করে কোরীয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিশ্রুতি। ৪. যুদ্ধবন্দীদের উদ্ধারের অঙ্গীকার করেছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই যা সনাক্ত করা হয়েছে তা অবিলম্বে পুনর্বাসনের অন্তর্ভুক্ত করাসহ উভয় দেশই পিওএম বা এমআইএ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেছে।
কিম ও ট্রাম্প দুইজনই স্বাক্ষর করে দলিলটি বিনিময়ের পর পরস্পরের সাথে করমর্দন করেন। কিম বলেন, আমরা অতীতকে পেছনে ফেলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্ব একটি বড় পরিবর্তন দেখতে যাচ্ছে। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই মিটিংটি সম্ভব করে তোলার জন্য। সারা পৃথিবীর মানুষ এ মুহূর্তে আমাদের দেখছে। পৃথিবীর অনেক মানুষই হয়তো ভাবছে, এটা কল্পকাহিনী, বিজ্ঞান কল্পবাহিনীর চলচ্চিত্র।
স্থানীয় সময় ২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করে দুপক্ষের আলোচনার ফলাফল জানানো হবে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) এ ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উন এক দ্বিপাক্ষিক দলিলে স্বাক্ষর করেন।
ঐতিহাসিক বৈঠকের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করতে গেছে। শরীরী ভাষা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এমনই জানাচ্ছেন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক শরীরী ভাষার ওপর বিশেষায়িত ইনফ্লুয়েন্স সলিউশনস নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কারেন লেয়ং বলেন, সাক্ষাতের প্রথম ৬০ সেকেন্ডে দেখা গেছে, দুই নেতাই নেতৃত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁদের করমর্দন সমকক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। ট্রাম্পকে এ ব্যাপারে খুব সচেতন থাকতে দেখা গেছে। তাঁর কথাবার্তা অগ্রাধিকার দেওয়া হোক, তা তিনি চেয়েছেন এবং বৈঠকের নেতা তিনিই, তা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।’
কথাবার্তার বেশির ভাগই ট্রাম্প বলেছেন এবং কিমকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা গেছে। ডোনাল্ডের কাঁধ চাপড়ে দিতে দেখা গেছে কিমকে। এটা অপর পক্ষের ওপর নিজের প্রভাবকে বোঝায়।
কিমের চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী ট্রাম্প হোটেলের লাইব্রেরির দিকে পথ দেখিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতাকে নিয়ে গেছেন। সেখানে একান্তে বৈঠক করেছেন। পথ দেখানোর সময় কিমের পিঠে হাত রাখেন ট্রাম্প।
শরীরী ভাষার বিশেষজ্ঞ লিয়ং আরো বলেন, বসে থাকার সময় দুই নেতার স্নায়বিক দুর্বলতা ঢেকে রাখা কঠিন ছিল। ট্রাম্পের ছিল তির্যক হাসি, হাত উশখুশ করছিল এবং কিম ঝুঁকে ছিলেন ও মেঝের দিকে তাকিয়েছিলেন। কিম কথা বলছেন দোভাষীর সাহায্যে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রথম মিনিটেই তিনি বুঝতে পারবেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা আসলে শান্তি আলোচনার ব্যাপারে মনোযোগী কি না।
সকালে সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে ট্রাম্প ও কিম বৈঠকে বসেন। পরে তাঁরা আলোচনার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি স্থাপন এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
স্কাই নিউজ, স্ট্রেইটস টাইমস ও বিবিসি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button