খেলা

দ্বিতীয় দিন শেষে ৭২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হতে তখনো ১৫ বল বাকী। এমন সময় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে হারানোর ধাক্কাটা খেতে হয় বাংলাদেশকে। নয়তো বেশ এগিয়ে থেকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় শেষ করতে পারতো টাইগাররা। কিন্তু হলো না। সমান-সমান থেকেই দিন শেষ করতে হলো স্বাগতিকদের। ৫ উইকেটে ২২১ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ৭২ রানে পিছিয়ে মুশফিকুরবাহিনী। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৯৩ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে প্রথম দিনই অভিষেক খেলোয়াড় মিরাজের ভেল্কিতে চিন্তা নিয়ে দিন শেষ করেছিলো ইংল্যান্ড। তার ৫ উইকেট শিকারে নিজেদের ৭ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ২৫৮ রান তুলে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে সফরকারীরা। তাই দ্বিতীয় দিন ঐ স্কোরটাকে বাড়িয়ে নেয়ার লক্ষ্য ছিলো ইংলিশদের।
কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রথম বলেই ইংল্যান্ডকে ধাক্কা দেন আগের দিন ১৭ ওভারে ২৮ রানে উইকেট শূন্য থাকা বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল। ৩৬ রান নিয়ে শুরু করে সেখানেই থেমে যান ওকস।
এরপর দলের স্কোরটা সামনের দিকে টেনে নিয়েছেন ৫ রান নিয়ে শুরু করা আদিল রশিদ। তার রান তোলার ভঙ্গিতে চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু বেশিক্ষণ চিন্তা করতে হয়নি টাইগারদের। দিনের শুরুর নায়ক তাইজুল দ্বিতীয়বারের মত আঘাত হানেন ইংল্যান্ড শিবিরে। শট কভারে দাড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ক্যাচে ২৬ রানে থেমে যায় রশিদের ইনিংসটি। বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন সাব্বির।
নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে রশিদ যখন ফিরেন তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ২৮৯ রান। তাই ৩শ’ নীচে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে দলটি। সেই শংকা নিশ্চিত করেন প্রথম দিনের নায়ক মিরাজ। দশ নম্বরে নামা স্টুয়ার্ট ব্রড উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। তাতে আউটের আবেদন করে বসেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। ফলে আবারো ডিআরএস নেয়ার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
ইনিংসের ১০ম রিভিউতে (দু’দলের) শেষ পর্যন্ত ব্রডকে আউটই ঘোষণা করেন ম্যাচের থার্ড আম্পায়ার। ফলে অভিষেক ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। আর ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় ২৯৩ রানে। এখন পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই সর্বনি¤œ রান ইংলিশদের। মিরাজ ৮০ রানে ৬, সাকিব ৪৬ রানে ২ ও তাইজুল ৪৭ রানে ২ উইকেট নেন।
ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দেয়ার পর নিজেদের ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। দেখেশুনেই খেলছিলেন তারা। ফলে বিনা উইকেটে দলের স্কোর ২৯ রানে পৌছে যায়।
কিন্তু ১৪তম ওভারে গিয়ে হারের মানেন ইমরুল। ইংল্যান্ডের স্পিনার মঈন আলীর দুর্দান্ত এক ডেলিভারীতে বোল্ড হন তিনি। ৫০ বলে ৩টি চারের সহায়তায় ২১ রান করেন ইমরুল।
ইমরুলকে বিদায় দেয়ার পর তিন নম্বরে নামা মোমিনুলকেও শিকার করেন মঈন। ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ইমরুলকে তুলে নেয়ার পর ঐ ওভারের পঞ্চম বলে মোমিনুলকে শিকার করেন মঈন। শূন্য রানে বিদায় নেন মোমিনুল। এরপরই লাঞ্চের বিরতিতে যায় দু’দল। এসময় বাংলাদেশের স্কোর ছিলো ২ উইকেটে ২৯ রান।
লাঞ্চ থেকে ফিরে ইনিংস মেরামতের কাজটা ভালোভাবেই করেছেন তামিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। উইকেটের সাথে মানিয়ে নিয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করেন তারা। ফলে রানের চাকা ঘুড়তে থাকে বাংলাদেশের। শতরানের কোটাও পেরিয়ে যায় স্বাগতিকদের। তখনও ব্যাট হাতে অবিচল তামিম ও মাহমুদুল্লাহ।
তবে দলীয় ১১৯ রানে বিদায় নিতে হয় মাহমুদুল্লাহ’কে। তামিমের সাথে তৃতীয় উইকেটে ৯০ রান যোগ করেন মাহমুদুল্লাহ। তৃতীয় উইকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ৩টি বাউন্ডারিতে ৬৬ বলে ৩৮ রান করেন মাহমুদুল্লাহ। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। তবে ৫৫ রানেই থামতে পারতেন তিনি। বেঁচে যান রিভিউ নিয়ে।
এরপর ৩ উইকেটে ১১৯ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। চা-বিরতির পর ক্রিজে তামিমের সঙ্গী হন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। প্রথম ৭ বল থেকে কোন রান নিতে না পারলেও, পরের দু’বল থেকে দু’টি বাউন্ডারি আদায় করে নেন মুশি।
ফলে ব্যাট হাতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য দেখায় মুশফিকুরকে। এতে হয়তো সাহস বেড়ে যায় তামিমের। ফলে মুশফিকুরের সাথে তাল মিলিয়ে রান তুলছিলেন তামিম। দারুণ ব্যাটিং-এ সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুভার্গ্য তামিমের।
১১ বছর পর টেস্ট দলে ডাক পাওয়া গ্যারেথ ব্যাটির প্রথম শিকার হয়ে নিজের ইনিংসের ইতি টানেন তামিম। ৭টি বাউন্ডারিতে ১৭৯ বলে ৭৮ রান করেন তিনি। দলপতির সাথে চতুর্থ উইকেটে ৪৪ রান যোগ করেন তিনি।
দলীয় ১৬৩ রানে চতুর্থ তামিম ফিরে যাবার পর বাংলাদেশের ইনিংস টেনে নেয়ার দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় মুশফিকুর ও সাকিব আল হাসানের কাঁধে। সেই দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই পালন করছিলেন তারা।
প্রতিপক্ষ বোলারদের সমীহ করেই খেলছিলেন মুশফিকুর ও সাকিব। সেই সাথে এই জুটি দিয়েই দিন শেষ করার পথেই হাটচ্ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হবার ১৫ বল আগে উইকেট পতনের তালিকায় নাম লেখান মুশফিকুর। ৬টি চারে ৭৭ বলে ৪৮ রান করে ফিরতে হয় মুশিকে। এরপর নাইটওয়াচম্যান শফিউল ইসলামকে নিয়ে দিনের বাকী সময়টা পার করেন সাকিব। শফিউল শূন্য রানে ও সাকিব ৩১ রানে অপরাজিত আছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button