sliderঅর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

দেশে তিন মাসের পেঁয়াজ মজুত : বাজারে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা

দেশের কৃষকদের সুরক্ষা দিতে আপাতত নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। এতে করে গত দুই দিনে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। বিশেষ করে খুচরা বাজারে একেক জায়গায় একেক দাম রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাজারে এখন তিন মাসের পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। ফলে দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে বাজারে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা করছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের কৃষকের স্বার্থে আমরা পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছি। দেশের বাজারে যে পেঁয়াজ আছে তাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাবে। তাই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। আমরা শ্যামবাজার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। তারপরও যদি বাড়তি দাম রাখা হয়। আমার আবারও এলসি খুলে দেব। তাতে করে কৃষকেরা আবারও ক্ষতির মুখে পড়বে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আমদানি বন্ধের ঘোষণার পর থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। আর পাড়া মহল্লায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা। যা গত সোমবার পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি।
রাজধানীর ইস্কাটনের রফিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা। ফলে তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫০ টাকা দরে।
পাইকারি বাজারে ২-৩ টাকা বেড়েছে তাহলে কেন এত দাম রাখা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কারওয়ান বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করি। সেখানে পাল্লা প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। তার ওপরে পরিবহন খরচ। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, পাল্লা প্রতি দাম রাখা ২০০ টাকা। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৪০ টাকায়। দুদিন আগেও এ পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৩০-৩৫ টাকায়।
তিনি বলেন, সরকার নতুন করে পেঁয়াজের আইপি দিচ্ছে না। ফলে নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি স্থলবন্দরের কাছাকাছি যেসব পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রয়েছে, তারা পেঁয়াজ মজুত করে এখন পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন। সামনে দাম আরও বাড়বে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি বন্ধ হওয়ায় পেঁয়াজের বাজারে প্রভাব পড়ার কোনো কারণ নেই। বছরে যে পরিমাণ পেঁয়াজ প্রয়োজন হয় তার সিংহভাগ দেশেই উৎপাদন হয়। আর এখনতো দেশি পেঁয়াজের মৌসুম। তা ছাড়া এখন যেসব বিদেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা আগের কেনা। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করেছে।
দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button