উপমহাদেশশিরোনাম

দেশবাসী আপনাকে কোন চৌরাস্তায় সাজা দেবে? মোদির প্রতি সিন্ধিয়া

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এমপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেছেন, মোদিজি বলুন দেশবাসী আপনাকে কোন চৌরাস্তায় সাজা দেবে। আজ (রোববার) গণমাধ্যমে সিন্ধিয়ার ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।
মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের নির্বাচনি প্রচার অভিযান কমিটির সভাপতি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া নোট বাতিল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও সাফাইকে কটাক্ষ করে ওই মন্তব্য করেন।
জ্যোতিরাদিত্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছ থেকে পঞ্চাশ দিন সময় চেয়ে বলেছিলেন, যদি ওই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয় তাহলে দেশের মানুষ যে চৌরাস্তায় হোক তারা সাজা দেবেন। এবার মোদিজি নিজেই বলুন দেশের মানুষ আপনাকে কোন চৌরাস্তায় সাজা দেবেন?’
নোট বাতিল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সেসময় বলেছিলেন, আমাকে ৫০ দিন সময় দিন, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিন, আমি সবকিছু ঠিক করে দেবো। নোট-বাতিলে দেশের ভালো না হলে তিনি পঞ্চাশ দিন পর চৌরাস্তায় গিয়ে দাঁড়াবেন। দেশ তাকে যে শাস্তি দেবে তা-ই তিনি মাথা পেতে নেবেন।
কংগ্রেস নোট বাতিলের ফলে দেশবাসীর কোনো লাভ হয়নি বরং মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে বার বার বলে আসছে।
জ্যোতিরাদিত্য বলেন, ‘এসময় দেশে এমন এক সরকার আছে যারা স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এক অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নোট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল। এরফলে দেশের অর্থব্যবস্থার ইঞ্জিন থেকে তেল বের করে নেয়া হয়েছে। নোট বাতিল কার্যকর হওয়ার পর থেকে লোকেদের নিজের অর্থ পাওয়ার জন্যই ব্যাংকের লাইনে কয়েক সপ্তাহ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এসব ঘটনায় ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। যাদের মৃত্যু হয়েছিল তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে সমবেদনা প্রকাশের জন্য দুটো শব্দও বেরোয়নি!’
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, ‘নোট বাতিলের ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। এত ধ্বংসের ফলে তাদের আসলে কী ফায়দা হয়েছে? সরকার এই বিষয়ে নিশ্চুপ হয়ে আছে। নোট বাতিলের ফলে কালোটাকা, সন্ত্রাসবাদ ও জাল নোটের সমস্যা দূর হবে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু কালো টাকা কোথায় গেল? সন্ত্রাসবাদ কী শেষ হয়েছে? জাল নোট কী বন্ধ হয়েছে?’ নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশবাসীর সঙ্গে বড় প্রতারণা ছিল বলেও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া অভিযোগ করেন।
পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button