slider

দুই বছর আগে নিখোঁজ ঝালকাঠির হাবিব ও নলছিটির মিলন আবারো জঙ্গিতে

মোঃশাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ২০২১ সালে করোনা ভাইরাসের মহামারিকালে ভিন্ন সময়ে বাড়ি থেকে ২ তরুণ নিখোঁজ হয়। এদের একজন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল গ্রামের মৃত.কদম আলী তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান ওরফে মিলন তালুকদার ২০২১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা করে বাড়ি থেকে নিঁখোজ হয়। সন্ধান পেতে নলছিটি থানায় সাধারন ডায়েরী (নং-৪৯৫) করে তার ভাই রাসেল তালুকদার। একইভাবে বাড়ি
থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাউকাঠি কালিআন্দার গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব ওরফে মুরা।

তাদের খোঁজে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সহায়তা চায়। এরপর প্রায় দুই বছর কেটে যায়। তাদের ফিরে আসার সম্ভাবনাও পরিবার থেকে ক্ষীণ হতে শুরু করে । পরিবারের সদস্যরা যখন তাদের ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন-ঠিক তখন খবর আসে তাদের খোঁজ মিলেছে। দুই বছর পর তাদের সন্ধান পেয়ে আনন্দিত না হয়ে আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা। শংকা ও ভয় যেন তাদের জেঁকে বসেছে। কারণ দুর্গম পাহাড়ে জানুয়ারির শেষের দিকে সেনা বাহিনী ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে কক্সবাজার থেকে যে ৩৭ জঙ্গি আটক করা হয় এদের মধ্যে দুজন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার নাচনমহল গ্রামের মৃত.কদম আলী তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান ওরফে মিলন তালুকদার ওরফে লামজল ও সদর উপজেলার বাউকাঠি কালিআন্দার গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব ওরফে মুরা।

মিলন ও হাবিব নিজ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামায়াতুল
আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ায়’ যোগ দেয়। জানুয়ারির শেষের দিকে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে কক্সবাজার থেকে এ সংগঠনের সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রনবীরকে গ্রেফতার করা হয়। মোবাইল ফোনে ধারণ করা অস্ত্র প্রশিক্ষণের ভিডিও তার কাছে পাওয়া যায়। এ থেকে ১২ জনের সন্ধান মেলে। যাদের সকলের বাড়ি বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায়।

প্রসঙ্গত, নিষিদ্ধ সংগঠন হুজির সদস্য সন্দেহে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট নলছিটির নাচনমহল ইউনিয়নের খাদেমুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসা থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের প্রশিক্ষক ছিলো নাচনমহল গ্রামের মৃত.কদম আলী তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান ওরফে মিলন তালুকদার ওরফে লামজল। তাঁদের কাছ থেকে গ্রেনেড, আগ্নেয়াস্ত্র, জঙ্গি বই ও লিফলেট জব্দ করা হয়। তখন তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনটি করে মামলা করে পুলিশ। গ্রেপ্তার তরুণদের ঝালকাঠি কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তারা বরিশাল কারাগারে থাকা অবস্থায় মামলাগুলো থেকে
একজনকে অব্যাহতি দেন আদালত। বাকি আটজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায়
চার বছর করে সাজা দেন ঝালকাঠির একটি আদালত। কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে
আপিল করেন তাঁরা। উচ্চ আদালত আপিল আমলে নিয়ে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার
নির্দেশ দেন।

র‌্যাব-৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী-অভিযানে গ্রেফতার রনবীর এবং সংগঠনের অস্ত্র শাখার প্রধান আবুল বাশার মৃধার কাছ থেকে মিলেছে কথিত নিখোঁজ তরুণদের নানা তথ্য। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের ভিডিওতে মিলেছে ১২ তরুণের অস্ত্র প্রশিক্ষণের দৃশ্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে ভিডিওটি দেখে ৩৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ১২ জনের
বাড়ি বরিশালের বিভিন্ন এলাকায়।

২৩ জানুয়ারি ভোরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলির পর সেনাবাহিনীর হাতে রনবীর ও বাশার মৃধা আটক হয়। এরপর জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে নতুন জঙ্গি সংগঠনের ব্যাপারে জানা যায়। অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ভিডিও উদ্ধার করা হয়। এ ভিডিওর সূত্র ধরে ১২ তরুণের খোঁজ মেলে।

র‌্যাব-৮-এর কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালের বিভিন্ন সময়ে ১২ তরুণ নিজ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তবে তাদের মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না। তাদের প্রায় সবাই শিক্ষার্থী। কেউ কেউ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। করোনাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে তারা একে একে ঘর ছাড়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button