sliderরাজনীতিশিরোনাম

দুই দফা দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা এবি পার্টির

নিজস্ব প্রতিনিধি: যুগপৎ নয় দুই দফা দাবিতে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার বিজয় নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষনা করেন, “যুগপৎ নয় স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ২ দফা দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবি পার্টি। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে “অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা জাতিসংঘের তত্বাবধানে নির্বাচন” ও “রাষ্ট্র মেরামতে জাতীয় ঐকমত্য”র দুই দফা দাবিতে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
দলের আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ত্ব করেন। তিনি স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত ১৪ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসন আজ দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। সম্মতিহীন দুঃশাসন, আর্থিক খাতে অব্যস্থাপনা, দুর্নীতি ও লুটপাটে দেশের মানুষের আজ নাকাল অবস্থা। ২০১৪ সাল থেকে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন না থাকার কারনে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে আজ জবাবদিহিতাহীন ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। রাজনৈতিক এই অচলায়তনের দায় একমাত্র সরকারী দলের।
সংবাদ সম্মেলন থেকে গত শনিবার ঢাকার শাহবাগে খ্যাতিমাণ প্রকৌশলী এবং একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান জনাব ম ইনামুল হকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। তাঁকে দৈহিক নাজেহাল করাকে দেশের জন্য চরম লজ্জা ও কলংকজনক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কয়েকদিন আগে গুম হওয়া একটি পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে যে পরিকল্পিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে সেটাকে মোটেও শুভ লক্ষণ নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক সংকট নিয়ে এবি পার্টির অবস্থান তুলে ধরে সদস্য সচিব জনাব মন্জু বলেন, বিজয়ের মাসে সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা, খুন, হাজার হাজার গনগ্রেফতার, ঢাকার মহসমাবেশকে ঘিরে রাজধানীকে অবরুদ্ধ করবার প্রয়াস কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। সরকার দলীয় নেতারা ‘খেলা হবে’ ‘খেলা হবে’ বলে যে উস্কানি দিচ্ছেন তার ফল আমরা সারাদেশে দেখতে পাচ্ছি।
বিএনপি’র ১০ দফা ও ২৭ দফাকে স্বাগত জানিয়ে মন্জু বলেন, মূলতঃ এই মূহুর্তে দেশের মানুষের মৌলিক দাবি দুটি। একটি হলো স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে এই সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেই সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। প্রয়োজনে এই নির্বাচন জাতিসংঘের অধীনে করার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। দ্বিতীয়টি হলো বাংলাদেশ রাষ্ট্র মেরামত করার জন্য একটি ঐকমত্যের রূপরেখা, যা হবে সকল দলের সম্মতিতে একটি জাতীয় অঙ্গীকার এবং তা হতে হবে অলংঘনীয়।
বর্তমান সময়ের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর বিদ্রোহ, ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন – এসব মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহাসিক পথ ধরে দেশের জনগণ আজ আবারও শোষক ও শোষিত দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। দূর্ভাগ্যজনকভাবে যে আওয়ামীলীগ আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলো সেই আওয়ামীলীগ আজ বাংলাদেশে ভয়ংকর শোষক আকারে হাজির হয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। যেই শোষক ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা সমগ্র শোষিতরা দল মত নির্বিশেষে আজ আবার ঐক্যবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দলের আহবায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, গোলাম ফারুক ও আনিছুর রহমান কচি। এসময় দলের যুগ্ম সদস্য সচিববৃন্দ, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিববৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, যুব পার্টি ও মহিলা পার্টির প্রতিনিধি সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button