দূর্ঘটনাশিরোনাম

দিলু রোডে আগুন : সন্তানের পর চলে গেলেন মা

রাজধানীর মগবাজারের দিলু রোডের ছয়তলা ভবনে লাগা আগুনে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিলো।
রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হলো।
ঢামেক শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসের চার বছরের সন্তান রুশদি মারা যায়। বাকি নিহতরা হলেন- এইচএসসি পরীক্ষার্থী আফরিন জাহান যুঁথী (১৭) ও আব্দুল কাদের লিটন (৪০)।
এদিকে নিহত নারীর স্বামী শহিদুল কিরমানী রনির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া তাকে রবিবার সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পাঠানো হয়েছে।
একই অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়েছে ঐ বাড়ির আরো চারজন বাসিন্দা। তারা হলেন— কাঁচামাল ব্যবসায়ী মনির হোসেন (৪০), তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (৩০), ছেলে মাহমুদুল হাসান (৯ মাস) ও মাহাদি হাসান রিফাত (৯)।
বাড়িটির তৃতীয় তলায় জান্নাতুল ফেরদৌস পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। আফরিন জাহান যুঁথী পাঁচতলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন এবং আব্দুল কাদের লিটন থাকতেন ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে। তিনি ঐ ভবনের দ্বিতীয় তলার ক্লাসিক ফ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি বায়িং হাউজের অফিস সহকারী ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে দিলু রোডের ৪৫/এ নম্বর ছয়তলা বাড়ির নিচতলার গ্যারেজ থেকে প্রথমে আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওপর তলায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগেই আগুনে পুড়ে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ জান্নাত ও তার স্বামী রনিসহ ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে জান্নাত মারা যান। রনির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button