খেলা

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টিকে গেলো পাকিস্তান

ভারতের বিপক্ষে হার দিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করেছিলো পাকিস্তান। ওই ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে যেভাবে হেরেছিলো তারা, তাতে তাদের পক্ষে বাজি ধরার লোক খুব কমই ছিলো। অন্তত দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সমর্থকরা তেমন কিছু আশা করেনি। কিন্তু বাস্তবতা বড় আনন্দই নিয়ে এলো পাকিস্তানের জন্য। ওয়ানডের এক নম্বর দলকে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে হারিয়ে টিকে গেছে পাকিস্তান।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার দিকেই হেলে ছিলো। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাও ছিলো বড্ড দৃষ্টিকটু। মনে হচ্ছিলো হারকে ভবিতব্য ধরেই খেলছে তারা।
কিন্তু স্পিনাররা যখন একের পর এক ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদের জন্য রান তোলা কষ্টকর করে তুলতে লাগলো, পুরো পাকিস্তান দল ঠিক তখনই দাঁড়িয়ে গেলো অন্যভাবে। পেসাররা এসে তুলে নিয়েছেন একের পর এক উইকেট, তাতে পাকিস্তানের সামনে পুঁজি দাঁড়িয়েছে মাত্র ২১৯ রানের।
রান তাড়া করতে নেমে প্রথম পাঁচ ওভারে পাকিস্তানের যে রান রেট ছিলো, তা বাড়িয়ে তাদের সম্ভাবনা। এর পুরো কৃতিত্ব পাবেন অভিষিক্ত তরুণ ফখর জামান। ২৩ বলে ৩১ রান করে পাকিস্তানের আউট হওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান তিনিই।
ফখর জামানের আউট হওয়ার দুই বল পর বিদায় নেন বিদায় নেন আজহার আলি। তিন বলের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে বসে পাকিস্তান। তাদের এই ধসের কারণ মরনে মরকেল। তার দারুণ দুটি ডেলিভারিতেই মূলত পথ হারিয়ে বসে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন।
আজহার আউট হওয়ার পরের বলে এক রান নেন হাফিজ। এরপর টানা ১৯ বলে একটা রানও নিতে পারেনি পাকিস্তান। দ্রুত দুইটা উইকেট হারিয়ে ফেলাটা যে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে কতোটা প্রভাব পড়েছিলো, সেটা স্পষ্ট এই তথ্যেই।
দলীয় ৯৩ রানে হাফিজ আউট হয়ে ফেরেন ২৬ রান করে। এরপর শোয়েব মালিক নেমে ১৪ বলে ১৬ রান করে রান রেট কিছুটা বাড়িয়ে নেন। ২৭ ওভার শেষে পাকিস্তান তুলে ১১৯ রান, তিন উইকেট হারিয়ে। খেলা যখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে, তখনই নেমে আসে বৃষ্টি। এরপর আর মাঠে নামতে পারেননি ক্রিকেটাররা। পরে বৃষ্টি আইনে পাকিস্তান জিতে যায় ১৯ রানে।
এর আগে টস জিতে পাকিস্তানকে বোলিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১৮ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা বুঝিয়ে দেন, আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তটা ঠিক কাজে লাগলো না এই ম্যাচে। এ দিকে এই ম্যাচেই ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়ানডেতে গোল্ডেন ডাকের তিক্ত স্বাদ পান এবি ডি ভিলিয়ার্স।
ভিলিয়ার্সকে ফ্ল্যাট ইন-ড্রিফটার দিয়েছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। কিন্তু বলটা সামান্য দূরে থাকায় পয়েন্টে দিকে মারতে গিয়েছিলেন ভিলিয়ার্স। ইমাদের এই ফাঁদ বুঝতে না পেরে তিনি ক্যাচ তুলে দেন হাফিজের হাতে।
পাকিস্তানের হয়ে তিন উইকেট নেন পেসার হাসান আলি। আট ওভারে মাত্র ২৪ রান দেন তিনি। জুনাইদ খান ও ইমাদ ওয়াসিম নেন দুটি করে উইকেট। এ দুইজনের মধ্যে ইমাদ আট ওভারে দেন মাত্র ২০ রান। পাকিস্তানি বোলারদের দাপটে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে তুলে মাত্র ২১৯ রান। পরে বৃষ্টির বাঁধা এবং পাকিস্তানের ১৯ রানের জয় আসে।
ভারতের কাছে হারের পর পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসে যে জোরালো আঘাত লেগেছিলো, তাতে মনে হয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হয়ে যাবে তাদের। কিন্তু আদতে তা হয়নি। বরং ওয়ানডের এক নম্বর দলকে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালো এই এশিয়ান দেশটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button