দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে সেমিতে ভারত

আরও একবার বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলো দক্ষিণ আফ্রিকা। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের টিকিট কাটলো ভারত। এর ফলে আগামী ১৫ জুন সেমিফাইনালে বাংলাদেশ-ভারতের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়লো। কারণ সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে টিকে থাকা পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে রান রেটে অনেক এগিয়ে আছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
রোববার ‘বি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয় ভারত। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৪.৩ ওভারে মাত্র ১৯১ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৩৮ ওভারে দুই উইকেট হারিয়েই ১৯৩ রান তুলে ফেলে বিরাট কোহলির দল। ৭২ বল হাতে রেখে আট উইকেটের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত। সেইসঙ্গে ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত হয় তাদের।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট ও +১.৩৭০ নেট রানরেট নিয়ে ভারতের ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের রানার আপ বাংলাদেশকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও ভারতকে পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিলো মাশরাফিবাহিনী।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৯২ রানের ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৩ রানেই রোহিত শর্মাকে হারায় ভারত। তবে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলি দেখেশুনেই ব্যাট চালিয়ে যান। ধাওয়ান ৭৮ রানে আউট হলেও দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন বিরাট কোহলি এবং যুবরাজ সিং। কোহলি ১০১ বলে ৭৬ এবং ২৫ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্ড হিটার যুবরাজ সিং। দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে মরকেল এবং ইমরান তাহির একটি করে উইকেট নেন।
বাঁচা মরার ম্যাচে শুরুটা কিন্তু বেশ ভালোই করেছিল প্রোটিয়ারা। দলীয় ৭৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। ব্যক্তিগত ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন হাশিম আমলা। কিন্তু কুইন্টন ডি কক ৫৩ এবং ফাফ ডু প্লেসি ৩৬ রান করে আউট হয়ে গেলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৯১ রানের বেশি সংগ্রহ গড়তে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। জেপি ডুমিনি ২০ রানে অপরাজিত থাকলেও ডেভিড মিলার এক, ক্রিস মরিস চার, রাবাদা পাঁচ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার এবং ম্যাচসেরা জাসপ্রিত বুমরা দুটি করে উইকেট লাভ করেন। এছাড়া উমেশ যাদবের জায়গায় দলে ফেরা রবিচন্দ্রন অশ্বিন, হার্দিক পান্ডে এবং রবীন্দ্র জাদেজা প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নেন। সুত্র ঃ প্রিয়.কম




