আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ: পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ, আহত ৪১

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪১ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন নিয়ে যখন বিতর্ক করছিলেন এমপিরা তখন বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টমুখী পদযাত্রা শুরু করেন। কিন্তু তাতে বাধা সৃষ্টি করে পুলিশ। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকাীরা স্মোক বোমা ও ব্যাগভর্তি রঙ ছুড়ে মারে পুলিশের দিকে। জবাবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্য মূল দাবির অন্যতম সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হবে, পদত্যাগ করতে হবে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা’কে এবং রাজতন্ত্রে সংশোধন করতে হবে। রাজতন্ত্রে সংশোধন এনে রাজার ক্ষমতাকে খর্ব করার দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিবিসির সাংবাদিক জোনাথন হেড। তিনি বলছেন, এদিন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগই মনে করছেন, তাদের দাবির বেশির ভাগই প্রত্যাখ্যান করতে পারে পার্লামেন্ট। বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে। তাদের দাবির কোনোটা গ্রহণ করা হবে কিনা তা বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা নাগাদ ভোটে নির্ধারণ করার কথা এমপিদের। যদি বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেয়া হয় তাহলে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নকে আরো জবাবদিহিতায় আনা হবে। সিনেটে সংস্কার করতে হবে, যেখানে অনেক সদস্য আছেন অনির্বাচিত।
জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে সহিংস। পার্লামেন্টের কাজে কঠোর ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পুলিশ। কিন্তু সেই বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করতেই সেখানে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা স্মোক বোমা এবং রঙভর্তি ব্যাগ দাঙ্গা পুলিশের দিকে ছুড়তে থাকে। জবাবে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এতেও ব্যর্থ হয়ে তারা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে চোখমুখ জ্বালাপোড়া করতে থাকে শিক্ষার্থীদের। তাদেরকে অনেক স্থানে পানি দিয়ে মুখ, চোখ ধুতে দেখা যায়। কাঁদানে গ্যাসে আহত কমপক্ষে ৫ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে ঘটনাস্থলেই। আবার কেউ কেউ বন্দুকের গুলিতে আহত হয়েছে। তবে পুলিশ গুলি বা রাবার বুলেট ছোড়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button