
শাহীন রাজা : তিনিই শেষ। তিনি প্রথম। এবং তিনিই একমাত্র। তিনি হলেন “লিজ ট্রাস”। যুক্তরাজ্যের সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী।
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মৃত্যুর ঠিক তিনদিন আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমতি দিয়ে যান। রানী তাঁর দীর্ঘ জীবনে বৃটেনের বহু প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু লিজ হলেন রানীর কাছ থেকে অনুমতি পাওয়া শেষ প্রধানমন্ত্রী। চার্লস রাজা হবার প্রথম যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহন করতে যাচ্ছেন, তিনি হলেন লিজ।
এরকম সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্য অধিকারী একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, লিজ। রানীর কাছ থেকে শাষনভারের অনুমতি লাভ। এবং রাজার কাছে পদত্যাগ করা বোধহয় এই সৌভাগ্য আর কারো ললাটে জুটবে না। ক্ষমতা গ্রহণের দেড়মাসের মধ্যে তাঁকে পদত্যাগও করতে হয়। এই মনস্তাপ দীর্ঘ সময় বয়ে বেড়াতে হবে।
তবে সব কথার শেষ কথা হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। জনগণের আশা পুরণ করতে পারেননি ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন। যাবার আগে লিজ পার্লামেন্টে বলে যান, ” আমি যে ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছিলাম, তা পুরণ করতে পারিনি। তা-ই চলে গেলাম। বিদায় লগ্নে আমি ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক স্থিতি এবং অখন্ড সার্বভৌমত্ব কামনা করছি “। এই বলে তাঁর বিদায়।
একদিকে যেমন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রস্ফুটিত। ঠিক তেমনি পুঁজিবাদ রাষ্ট্রের কালো দিকটি প্রকাশিত। তবে তা কালো মেঘের আড়ালেই থেকে যায়। রাশিয় – ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সঙ্কট দেখা দেয়। আগামী শীতে এই সঙ্কট আরো বাড়বে। জনগণের এই দুরবস্থার কথা ভেবে ‘লিজ ট্রাস’ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দেন। কিন্তু বৃটেনের বৃহত জ্বালানী তেল ও গ্যাস ব্যবসায়ীদের কাছে এটা সুখকর মনে হয়নি। তাদের স্বার্থের কথা ভেবে ‘লিজ’ সরকারকে অজনপ্রিয় করার সকল আয়োজন করে। এবং তাতে ঘি ঢেলেছেন তাঁর-ই দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য ! যাদের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়া। অন্তঃকলহের মধ্য দিয়ে বৃটেনে রক্ষণশীল দলের শাসনে দীর্ঘ সময়ের জন্য অবসান হতে যাচ্ছে বোধহয় ?




