
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও এর সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে।
ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতী-সহ মোট ৩২জন অভিযুক্তকে বুধবার আদালত খালাস দিয়েছে।
এ রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র এমপি ও দেশটির মুসলিমদের প্রথম সারির নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
এদিন তিনি বলেন, ‘সারা দুনিয়া দেখেছে বাবরি ভাঙার দিনে সেখানে মঞ্চের ওপর বসে আদভানি-জোশীরা মিষ্টি বিলি করছিলেন। তাহলে তারা কীভাবে নির্দোষ হতে পারেন?’
অন্যদিকে খালাস পাওয়ার পর বিজেপির এই দুই প্রবীণ নেতাই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর বিরানব্বই বছর বয়সী আদভানি বাড়ির বাইরে এসে সাংবাদিকদের মিষ্টিমুখ করান।
ক্ষুব্ধ ও হতাশ মুসলিম নেতারা প্রশ্ন তুলছেন, ‘এই অভিযুক্তদের যদি সে দিনের ঘটনায় কোনও ভূমিকাই না-থাকে তাহলে মসজিদ ভাঙল কারা?’
বিবিসি বাংলা জানায়, লখনৌতে বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক বুধবার দুপুরে রায় পড়ার শুরুতেই জানিয়ে দেন, মসজিদ ভেঙে ফেলার এই ঘটনা আদৌ পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার দিন বিজেপি নেতারা উন্মত্ত জনতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও আদালত মন্তব্য করেছে।
বাবরি মসজিদ ভাঙার আঠাশ বছর পর যখন আদালতে মূল অভিযুক্তরা সবাই আজ খালাস পেয়ে যান, সঙ্গে সঙ্গে আদালতের ভেতরেই মুহুর্মুহু ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান উঠতে থাকে, বাইরেও চলতে থাকে তার রেশ।
বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক এস কে যাদব তার চাকরি জীবনের শেষ দিনটিতে জানিয়ে দেন, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি আদভানি-জোশী-উমা ভারতীর মতো নেতানেত্রীরা সেদিন মসজিদ ভাঙায় প্ররোচনা দিয়েছিলেন বলে, বরং তারা না কি সেটা আটকাতেই চেষ্টা করেছিলেন।
বাবরি মসজিদ ভাঙায় সময় বিজেপির সভাপতি ছিলেন মুরলীমনোহর জোশী, আর সে দিন তিনিও ছিলেন ঘটনাস্থলেই।
ছিয়াশি বছর বয়সী এই নেতা আজ দাবি করেছেন রামমন্দির আন্দোলনে সামিল দিলেও তারা মোটেই মসজিদ ভাঙতে চাননি।
তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দলের মতো সংগঠনের আরও যে অনেক নেতানেত্রী আদালতে খালাস পেলেন, তারা অনেকেই আজও জোর গলায় বলেছেন- ‘মসজিদ ভেঙে থাকলে বেশ করেছি।’
জয়ভগবান গোয়েল নামে আর একজন অভিযুক্ত কোর্টে ঢোকার আগেই মিডিয়াকে বলে যান, মসজিদ ভাঙার জন্য তিনি মোটেও লজ্জিত নন।
আর এত সব কিছুর পরেও কীভাবে আসামিরা সবাই খালাস পেলেন, তাতে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হায়দ্রাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
ওয়াইসির প্রশ্ন, ‘চার্জশিটে পর্যন্ত বলা হয়েছে, আগের রাতে আদভানি বিনয় কাটিয়ারের ডেরায় গিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এরা সবাই নির্দোষ হলে আমাদের প্রশ্ন, তাহলে মসজিদ ভাঙল কারা?’
বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির নেতা জাফরইয়াব জিলানি বলেন, ‘যেখানে মাত্র দুজন সাক্ষীর ভিত্তিতে খুনের আসামিকেও সাজা দেওয়া যায় সেখানে কয়েক ডজন সাক্ষী থাকার পরও আদালত কীভাবে বলতে পারে কোনও প্রমাণ নেই?’
তিনি বলেন, ‘আর এই সাক্ষীদের মধ্যে পুলিশ বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারাও ছিলেন যারা মুসলমান নন। ছিল অসংখ্য মিডিয়া রিপোর্ট, ফোটোগ্রাফারদের ছবি।’
বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুত্র : বিবিসি




