বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশির্বাদ-তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশির্বাদ উল্লেখ করে বলেছেন, সরকারের পাশাপাশি সকল গণমাধ্যমে আইসিটি বিষয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশন করলে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।

তথ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার মিরপুরের কল্যাণপুরস্থ জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে গণমাধ্যম কর্মীদের এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এর আগে তিনি রাজধানীর দারুসসালামে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট’এর নবনির্মিত ‘রাসেল মিলনায়তন’ উদ্বোধন করেন।

পরে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির হালচাল তুলে ধরতে বেতার ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।
তথ্য মন্ত্রী এসময় সংবাদ সম্প্রচারের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্যনির্ভর অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের জন্যও দেশের সকল গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

হাসানুল হক ইনু বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে শত শত মেধাবী তরুণ কাজ করে ৫ শ’ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। আগামী দিনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আইসিটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই খাতে বিপুল সংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থান হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে তথ্য ভবন তৈরি করবে। জেলা তথ্য ভবনে জেলার সব ‘তথ্য ভান্ডার’ থাকবে। তথ্য ভবনে সাংবাদিকরা তাদের সব ধরনের তথ্য আদান প্রদানে সহায়তা পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সাংবাদিকরা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারেন। আধুনিক তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে গণমাধ্যমকে বিশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

বেতার ও টেলিভিশনের সংবাদ বুলেটিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক খবর আলাদা শিরোনামে পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও খেলাধুলার সংবাদের সাথে সাথে যুগের চাহিদা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সাথে মিল রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচারের দাবি রাখে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আর্শিবাদকে বাংলাদেশে সফলভাবে প্রযোগ এবং জঙ্গি-সন্ত্রাস নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যম অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, এ মুহূর্তে সরকার কিভাবে তথ্যপ্রযুক্তির আর্শিবাদকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে ও জঙ্গি-সন্ত্রাস থেকে দেশকে রক্ষা করছে, জনগণের তা জানার অধিকার রয়েছে।’

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (নিমকো) মহাপরিচালক মোঃ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরী, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক একেএম নেছার উদ্দিন ভূঁইয়া, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেগম কামরুন নাহার, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান,বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর,তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা মালেক, নিমকো’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক শচীন্দ্রনাথ হালদার, কর্মশালা উপদেষ্টা মোঃ ওয়ালিউর রহমান, রেডিও টুডে’র উপদেষ্টা মোঃ মনিরুজ্জামান খান, এবিসি রেডি’র উপদেষ্টা মনোরঞ্জন দাশ, বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী এ এইচ এম বজলুর রহমান, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা নওয়াজেস আলী খান, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহা, এসএ টিভি’র উপদেষ্টা খ ম হারুন, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এর রাহুল রাহা,পরীক্ষাধীন নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী এতে মতামত ব্যক্ত করেন। কর্মশালা পরিচালক নিতাই কুমার ও চ্যানেল নাইন’এর বার্তা সম্পাদক শংকর মৈত্র কর্মশালা সঞ্চালনা করেন। বাসস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button