শিক্ষা

তথ্যশূন্য বেরোবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি

আদিব হোসাইন,বেরোবি : তথ্য প্রযুক্তির এই যুগেও চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটি। প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য তথ্য জানার অন্যতম মাধ্যম এই ওয়েবসাইটি (brur.ac.bd/) আপডেট করা হয়না নিয়মিত। ফলে ভর্তি পরীক্ষা, ফলাফল প্রকাশ, বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন অনুষ্ঠান পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ^বিদ্যালয়ের যেকোন সংবাদ জানার জন্য ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা যে অনলাইন পোর্টালগুলোতে কাজ করে সেগুলো এবং স্থানীয় কয়েকটি দৈনিকই একমাত্র ভরসা।
অনুসন্ধানে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটটিতে বিভাগগুলোর সম্পর্কে সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছিলো ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। অনেক বিভাগে নতুন মুখ যোগদান করলেও তা হালনাগাদ করা হয়নি।
এছাড়াও ব্যাচ সংখ্যা, শিক্ষক সংখ্যাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগটির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে হালনাগাদেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। গত মাসের ২ জুলাই ওয়েবসাইটটির ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ অপশনে হালনাগাদ করা হলেও নেই কারো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও এর সর্বশেষ তথ্য সংযোজন করা হয়েছিলো ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। ২০১১ সালের ১৯ মার্চ লাইব্রেরির স্থায়ী অবস্থানের কথা উল্লেখ করলেও বর্তমান সময়ের নেই কোনো হালনাগাদ, সংযোজন।
আর ‘হোমপেজ’ অপশনে শেষ হালনাগাদ ছিলো চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল। এরপর কোনো হালনাগাদই করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর, বিভাগ, রিসার্চ ইনস্টিউট, সাইবার সেন্টার, মসজিদ,ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসিক তিনটি হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় সংযোজনে এখনও গ্রহণ করা হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ।
একটি বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট আরও তথ্যবহুল এবং আপডেট হওয়া জরুরী বলে মনে করেন বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ইন্টারনেটের সুবাদে সারা দুনিয়া যখন মানুষের হাতের মুঠোয় তখনও বিশ^বিদ্যালয়ের একটি ওয়েবসাইট থাকার পরও আমরা সেটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছি না। বিশ^বিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট থাকার পরও বিভাগ গুলোকে কোন তথ্য/নোটিশ জানানোর কাজ করা হয় চিঠির মাধ্যমে।
এমনকি বিশ^বিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হলেও ওয়েবসাইটটিতে সে বিষয়ে কোন তথ্যই নেই।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, বিশ^বিদ্যালয়ের সার্বিক তথ্য জানার জন্য এতো সহজ পদ্ধতি থাকার পরও কেন শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? অথচ যদি ওয়েব সাইটি ভালোভাবে চলত তাহলে বিশ^^বিদ্যিালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি সকলে খুব সহজে জানতে পারতেন বলে মনে করেন অনেকেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক পাশ করে বর্তমানে আমেরিকার জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ইমরান সরকার নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা দেশের বাইরে আছেন তারা ওয়েবসাইট থেকে কোনো আপডেট (হালনাগাদ) তথ্য পায়না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশে আছি ওযেবসাইটে যথেষ্ট তথ্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বপরিমন্ডলে তুলে ধরতে পারছি না। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিৎ।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের দেখাশোনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং(সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, আমি দুই সপ্তাহ আগে দায়িত্ব পেয়েছি ওয়েবসাইটটি দেখাশুনার জন্য। অনেক বিষয় আপডেট ছিলো না দায়িত্ব নেয়ার পর ধীরে ধীরে সেই আপডেট তথ্যগুলো ওয়েবসাইটে যোগ করছি। আপডেট তথ্যের অনুলিপি সাথে সাথে না পাওয়ার কারনে নতুন বিষয়গুলো সংযোজন করতে পারিনি। নতুন তথ্য গুলোর অনুলিপি হাতে পেয়ে গেলে তথ্যগুলো যোগ করার মাধ্যমে ওয়েবসাইটটি আপডেট করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি ।
বর্তমান উপাচার্যের সময়ে ওয়েবসাইটির দেখাশোনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ (বিটিএফও) এর একান্ত সচিব মো. আমিনুর রহমান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button