তখন দিন ছিল সাড়ে ২৩ ঘণ্টা!
অদ্ভুত মনে হলেও পৃথিবীর ইতিহাসে এক সময় দিনের দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে ২৩ ঘণ্টা। আর বছর হতো ৩৭২ দিনে।
এক গবেষণার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ওই সময় পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াত অতিকায় ডাইনোসর। তখন পৃথিবী একটু দ্রুতই ঘুরতো। এখনকার তুলনায় দিনের দৈর্ঘ্য কম হলেও বছরের হিসেবে বাড়তি ৬-৭টি দিন বেশি গুনতে হতো। যদি ডাইনোসরেরা গুনতে পারে আরকি!
এই ঘটনা ৭ কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ দিকের। প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এই খবর জানালেন। ওই প্রাণীদের খোলসে চক্রাকারে থাকা দৈনিক বৃদ্ধির তথ্য এই আবিষ্কারের মূল সূত্র।
চলতি সপ্তাহে এই গবেষণা প্রকাশ হয়েছে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের একটি জার্নালে।
সাধারণত ভাবা হয়, পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য সব সময়ই ২৪ ঘণ্টা। কারণ সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণে কোনো হেরফের হয় না। নতুন আবিষ্কারে দিন ও বছরের হিসেবে তারতম্য থাকলেও ঘণ্টার হিসেবে বছর প্রায় সমানই থাকছে। এর কারণ হিসেবে ধন্যবাদ দিতে হয় চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও পৃথিবীর ঘূর্ণন নিয়ন্ত্রণ করে এই শক্তি।
প্রাচীন খোলসগুলো বিশ্লেষণ করে ওই সময়ে জলবায়ু নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেছে। যেমন তখনকার সমুদ্র এখনকার চেয়ে আরও বেশি উষ্ণ ছিল। গরমে ১০৪ ডিগ্রি ও শীতে ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকতো।
গবেষকেরা আশা করছেন, এই ধরনের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ থেকে দূর অতীতের অনেক কিছু জানা যাবে।



