ঢাবি ছাত্রকে নির্যাতন সাবেক ওসি হেলাল উদ্দিনের কারাদণ্ডাদেশ বহাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আবদুল কাদেরকে নির্যাতন ও জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের মামলায় খিলগাঁও থানার আলোচিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিনের তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল আদালত।
বুধবার ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাহিদুল কবির এ সাজা বহাল রাখেন।
কাদেরের আইনজীবী মনজুর আলম জানান, দুই পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আপিলের রায় দিয়েছেন। ওসির বিরুদ্ধে তিন বছরের সাজা বহাল রাখা হয়েছে।
মনজুর আলম জানান, দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ওসি হেলাল আজ আদালতে হাজির হননি। তিনি পলাতক রয়েছেন। তিনি আরো জানান, ওসি হেলালকে এখন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে।
ওসি হেলাল বর্তমানে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত আছেন। তিনি নিম্ন আদালত থেকে রায়ের পর কারাগারে যান। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি।
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র কাদের এখন কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র আবদুল কাদের ইস্কাটন গার্ডেন রোডের খালার বাসা থেকে হেঁটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ফিরছিলেন।
তিনি ওই হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে সেগুনবাগিচায় সাদা পোশাকের তিন পুলিশ সদস্য তাঁকে আটক করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তাঁকে মারধর করে। এরপর মাইক্রোবাসে তুলে তাঁকে খিলগাঁও থানায় নিয়ে সারা রাত হাজতে রাখা হয়।
পরদিন ১৬ জুলাই সকালে ওসি হেলাল উদ্দিন তাঁর কক্ষে নিয়ে কাদেরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। ওই দিন তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ।
এ ছাড়া ১৪ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় একটি গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলায়ও কাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২৬ জুলাই কাদেরের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।


