
ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চ্যান্সারিতে ‘কাশ্মির কালো দিবস’ পালন করেছে। পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের লোকজন, শিক্ষাবিদ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
বার্তায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ড. আরিফ আলভি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরিফ ভারতের অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নৃশংসতার বিরুদ্ধে অবিচল সংগ্রামের জন্য সাহসী কাশ্মিরিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি আইআইওজেকে-এর জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। সেইসাথে, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন এবং কাশ্মিরি ভাই ও বোনদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মিরের প্রতি পাকিস্তানের অটল সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইনস্টিটিউট অফ কনটেম্পরারি ইসলামিক থট-এর পরিচালক এবং ‘ফ্রেন্ডস অফ কাশ্মির, কানাডা’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আহ্বায়ক জাফর বঙ্গশ কাশ্মির বিরোধের আইনি এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তৃতা দেয়ার সময় বলেন, ২৭ অক্টোবর ইতিহাসে কলঙ্কময় দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, ৭৫ বছর আগে এ দিন ভারত জোরপূর্বক এবং অবৈধভাবে জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যে তার সৈন্য লেলিয়ে দিয়েছিল।
মানবাধিকার আইনজীবী এবং ‘জাস্ট পিস অ্যাডভোকেটস’-এর নির্বাহী পরিচালক কারেন রডম্যানও এই বিরোধের মানবিক দিকগুলো নিয়ে কথা বলেন এবং ভারত সরকার কর্তৃক জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন ৷
হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী তার সমাপনী বক্তব্যে পাকিস্তানের নেতৃত্বের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আইআইওজেকে-এর জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেন। তিনি আইআইওজেকে-তে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে এবং জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন এবং কাশ্মিরি জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী দীর্ঘস্থায়ী কাশ্মির বিরোধের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংস্থাগুলোকে ভূমিকা পালনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রবীণ হুরিয়াত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানির জীবন, সংগ্রাম এবং দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শন করা হয়।
হাইকমিশন আইআইওজেকে-তে ভারতীয় নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে একটি ফটো প্রদর্শনীরও আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং আইআইওজে-এর নির্যাতিত মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি



