আবহাওয়াশিরোনাম

ঢাকার বাতাসে স্বাস্থ্যের বারতা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ‘লকডাউনে’র কারণে সাধারণ জীবন যাপন থমকে গেলেও এর কিছু ইতিবাচক এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে।
রাস্তায় যানবাহন নেই। চালকের অযথা হর্নের শব্দ নেই। শহরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়িও বন্ধ। মানুষের যাতায়াত বন্ধ। ঢাকার ভেতর শিল্প-কারখানার চাকা ঘুরছে না। চারদিকে সুনসান নীরবতা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণার পর থেকে রাজধানী বলতে গেলে এক অচেনা এবং নিষ্প্রাণ শহর। তিলোত্তমা শহরে নাগরিক কোলাহল নেই। সকাল থেকে রাত অবধি শোনা যায় পাখির কিচিরমিচির শব্দ। কোকিলের ডাক। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি রাস্তায় যানবাহন না থাকায় সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ঢাকা ফিরে পাচ্ছে শুদ্ধ বাতাস। ঢাকার চারপাশে অভিযান পরিচালনা করায় অনেক ইটভাটাও বন্ধ।
চলতি মাসের ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঢাকার বাতাসের মান ছিল ২০০ এর মধ্যে। আগের চার বছরেও বায়ুর মান ছিল একই। এমনকি বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান ছিল শীর্ষ তিনে। চার বছর ধরে ঢাকার অবস্থান বলতে গেলে একই জায়গায় অবস্থান করছিল। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে বৃহস্পতিবার থেকে। রবিবার ঢাকার বাতাসের মান ছিল ১১৪। সোমবার ঢাকার বাতাসের মান ৯৩।
ঢাকার এই আকস্মিক বদলে যাওয়ায়, বদলে গেছে এর পরিবেশও। বাতাস থেকে কমতে শুরু করেছে দূষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১০ বছরের মধ্যে মার্চ মাসে ঢাকার বাতাসের মান সবচেয়ে ভালো!
উল্লেখ্য, দূষণের জন্য বিখ্যাত হলেও দূষিত শহরের তালিকার প্রথম ৩০ এর মধ্যে নেই চীনের একটি শহরও। পুরো ভারত লকডাউন থাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমে এসেছে পশ্চিমবঙ্গেও। দিল্লি থেকে চেন্নাই, মুম্বাই, সবখানেই বায়ুর মান বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআইয়ের তথ্য বলছে, দিল্লির বায়ুর মান গতকাল ৯২-তে নেমে এসেছে। কলকাতায় আরও কম ৮৬। হাওড়ায় ৭১, মুম্বাইয়ে ৬৯ ও চেন্নাইয়ে ৫৬।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button