slider

ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিকার

ফারজানা ইয়াসমিন : চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবদানে আমরা বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে পেরেছি। তেমনি এশটি রোগ ‘ডেঙ্গুজ্বর’। আর এ রোগের বাহক হচ্ছে ‘এডিস’ নামক বিশেষ এক ধরনের মশা ; বর্তমানে এই রোগটি প্রায় মহামারির রুপ নিয়েছে। প্রতিবছর এরোগে অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এমনকি অকালে প্রান হারাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে আমাদের দেশেও এ রোগের প্রার্দুভাব ঘটে, এডিস মশা দেখতে গাঢ নীল ও কালো রঙের। এ মশার সারা শরীরে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ আছে। এর পাখাগুলো একটু লম্বাটে প্রকৃতির। প্রকৃতপক্ষে এডিস ইজিপটাই এবং এডিস এলবোপিকটাস নামক এ দু প্রজাতির স্ত্রী মশা ডেঙ্গুজ্বরের ভাইরাস বহন করে থাকে। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত ২ধরনের হয়। যেমন-১.ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বর ও ২. হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বর, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে সাধারণত তীব্র জ্বর হয়, এ ক্ষেত্রে জ্বর সাধারণত ১০৪/১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও বমি, পেটব্যথা, কোমরব্যথা, জয়েন্ট ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, ত্বকে ছোটো ছোটো লাল ফুসকুঁড়ি দেখা দেয়। এক্ষেত্রে হাড় ব্যথা এতটাই প্রচন্ড হয় যে, মনে হয় যেন হাড় ভেঙ্গে গেছে। এজন্য এই জ্বরকে ‘ব্যাক বেনি ফিভার্ব বলা হয়। ডেঙ্গুর ভয়াবহু রুপ হলো শক সিনডম। এর প্রভাবে রোগী হঠাৎ করে অপ্সান হয়ে মারাও যেতে পারে।
বাংলাদেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। এবারের ডেঙ্গুজ্বর অন্যান্যবারের তুলনায় ভিন্ন। তাই ডেঙ্গুজ্বর সন্দেহ হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যাসপিরিন বা অন্যকোনো ব্যথা নাশক ওষধ সেবন করাযাবে না। যাদের রক্তে প্লাটিলেট কমে যাবে তাদের জরুরি ভিত্তিতে রক্ত নিতে হবে। স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশ বৃদ্ধি করে। তাই বাড়ির আশ পাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা যায়। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে, সপ্তাহে অন্তত তিনদিন মশা নিধনের জন্য স্প্রে বা ফগিং ব্যবহার করতে হবে। ঘরের ফুলদানি অথবা অব্যবহিত কৌটা বা যেকোন পাত্রে যেন পানি না জমে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। সর্বোপরি সবাইকে সচেতন হতে হবে।
লেখক : সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), শাকরাইল উচ্চ বিদ্যালয়, শিবালয়, মানিকগঞ্জ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button