ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া ভূয়া সাংবাদিকের জজকোর্টেও জামিন হয়নি

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য করায় মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মোস্তাফিজুর রহমান খান মুকুল (৩৫) নামে গ্রেফতার হওয়া সেই ভূয়া সাংবাদিকের জজকোর্টও জামিন নামঞ্জুর করেছেন ।
রবিবার (১০ এপ্রিল) মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ জয়শ্রী সমাদ্দারের কোর্টে জামিন শুনানী শেষে না মঞ্জুর করেন বিচারক। আসামী পক্ষে জামিন শুনানী করেন অ্যাড.আসাদুজ্জামান আসাদ, অ্যাড.নজরুল ইসলাম বাদশা, অ্যাড. মেজবাউল হক মেজবাহ, অ্যাড. কামরুননাহার সেতু। রাষ্ট্র পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন পিপি অ্যাড. আব্দুস সালাম। বাদীপক্ষ থেকে শুনানী করেন অ্যাড.ইতি রানী সাহা ,অ্যাড.রাকিবুল হাসান, অ্যাড দেওয়ান কাদরিয়া লেনিন ও অ্যাড. মো.জহুরুল ইসলাম জহির।
এর আগে সিংগাইর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজ প্রতিনিধি মাসুম বাদশাহ’র দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গত ২৪ মার্চ দিবাগত রাতে থানা পুলিশ মুকুলকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত মুকুল সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া গ্রামের মৃত জামান মাদবরের পুত্র। সে নিজেকে নিবন্ধন বিহীন নাম সর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল সত্য প্রকাশের পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, সাংবাদিক মাসুম বাদশাহ’র বিরুদ্ধে তার ফেসবুক আইডি “মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান মুকুল ” থেকে বিভিন্ন সময় অপমানজনক, আপত্তিকর ও ছবিবিকৃিত করে মিথ্যা-বানোয়াট প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। একই পোস্ট তার নিবন্ধন বিহীন সত্য প্রকাশেও শেয়ার করে। এতে মাসুম বাদশাহ’র সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হলে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের জনৈক রনির কাছ থেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ভূক্তভোগী রনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানান। এদিকে, সাংবাদিক নামধারী মুকুল গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তার শাস্তির দাবীতে ঝড় ওঠেছে। মামলার বাদী ও থানা পুলিশকে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন সাধুবাদ। গ্রেফতাকৃত মুকুল ইতিপূর্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৭ ধারার মামলায় হাজতবাস করেছে। বর্তমানে মামলাটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে ।




