ডাক্তার নেই, ফার্মাসিস্টেই চলছে সিংগাইর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর প্রতনিধি : উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে কিন্তু ডাক্তার নেই। এমনি চিত্র মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা সদরের সিংগাইর সরকারি কলেজ, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের। জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রটির বেহাল দশা। গরীব ও অসহায় রোগীরা কেন্দ্রে এসে সেবা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রে জনবল কাঠামোতে চারটি পদ রয়েছে। একজন করে মেডিক্যাল অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (এসএসিএমও), ফার্মাসিস্ট ও এমএলএসএস। কিন্তু ফার্মাসিস্ট ছাড়া তিনটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। গত বছরের ১৭ এপ্রিল ফার্মাসিস্ট স্বপন কুমার সরকার এ কেন্দ্রে যোগদান করার পর উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার গোবিন্দ লাল সরকারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ফার্মাসিস্ট স্বপন কুমার সরকার বলেন, এ কেন্দ্রে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৭০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু জনবল সংকট ও ওষুধ স্বল্পতার কারণে প্রতিদিনই আমাকে চাপ সামলাতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও এটির হচ্ছে না। জরাজীর্ণ ভবন, দরজা জানালা ভাঙ্গা, আসবাবপত্র, পানি এবং টয়লেট ব্যবস্থা ও নেই। বসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় অপেক্ষমাণ বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশু রোগীদের।
স্থানীয়রা বলেন, সরকার গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাস্থ্য সেবার মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় জনমনে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। তারা অবিলম্বে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে ডাক্তারসহ অন্যান্য শূন্য পদে জনবল দিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুজহাত নওরীন আমিন বলেন, ওই কেন্দ্রে তো মেডিক্যাল অফিসার দিয়েছিলাম। কোনো ওয়াশ রুম নেই, কাঠামো টা পুরো জরাজীর্ণ অবস্থা। বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল দফতরকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। আমি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দেয়া যায় কিনা দেখবো।




