শিক্ষাশিরোনাম

ডাকসু নির্বাচন : কুয়েত মৈত্রীতে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট

অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রীদের কুয়েত মৈত্রী হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সবার সহযোগিতায় আবার ভোট শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী।
আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি হলে একযোগে ভোট শুরু হলেও রোকেয়া হল ও কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট শুরু করা যায়নি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর রোকেয়া হলের ভোট শুরু হলেও সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত কুয়েত মৈত্রী হলের ভোট গ্রহণ শুরু হয়নি।
সকাল সাড়ে ৯টায় কুয়েত মৈত্রী হলে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রীরা হলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে রাতেই ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের হাতেই সিল মারা ব্যালট পেপার ছিল। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সেখান থেকে এক বস্তা সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা। তাঁদের বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে প্রোভিসি মুহাম্মদ সামাদ সেখানে যান। শিক্ষার্থীরা তখন তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সবাই এখানে এসেছি। যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ ধরনের ঘটনা প্রত্যাশিত নয়। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে এখানে ভোট গ্রহণ শুরুর চেষ্টা করছি।’
কুয়েত মৈত্রী হলের স্বতন্ত্র সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী নুরুন্নাহার পলি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা সকালে যখন বলি ভোটের আগে ব্যালট দেখাতে হবে, তখন তাঁরা বলেন, এগুলো দেখানো যাবে না। পরে আমরা ভোট দিতে অস্বীকার করি। এবং ভোট বন্ধ থাকে।
এই প্রার্থী আরো দাবি করেন, ‘আমাদের বিক্ষোভের একপর্যায়ে প্রভোস্ট সবনম জাহান কয়েকটা বস্তা বাথরুমের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে একটি রুমে তালা মেরে দেন। পরে আমরা তালা ভেঙে বস্তাবন্দি ব্যালট উদ্ধার করি। সেগুলোতে দেখা যায় সব ছাত্রলীগের প্যানেলে ভোট দেওয়া।’
সকাল পৌনে ১০টার দিকে ছাত্রীরা হলের প্রভোস্ট সবনম জাহানের পদত্যাগসহ তিনটি দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন—ভোট জালিয়াতির জবাব চাই, প্রশাসনের পদত্যাগ চাই, এই ভোট মানি না মানব না।
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনটিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে প্রভোস্ট সবনম জাহানের মোবাইলে ফোন করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন।
এদিকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যপক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভোট স্থগিত আছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরে বিস্তারিত জানাব।’
আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট বিরতিহীনভাবে চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এই ভোটকে কেন্দ্র করে খুব সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট শুরুর পর ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচনে মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। আর ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে মোট ২২৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি হলে নির্বাচিত হবেন ১৩ জন করে। সেই হিসাবে ১৮ হল সংসদে প্রার্থী রয়েছেন মোট ৫০৯ জন।
এ নির্বাচন নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতার চিন্তা করছেন ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বামপন্থীদের প্যানেল প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, স্বতন্ত্রসহ অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, মূলত লড়াইটা হবে কোটা সংস্কার আর ছাত্রলীগের ভেতরে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button