
আগামী ১১ মার্চ দীর্ঘ ২৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। শনিবার (৯ মার্চ) প্রচার-প্রচারণার শেষদিন হওয়ায় মুখরিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রার্থীরা আবাসিক হলগুলোর রুমে-রুমে গিয়ে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও সক্রিয় রয়েছেন প্রার্থীরা।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে ২১ ও জিএস পদে ১৪ জনসহ বিভিন্ন পদে মোট ২২৯জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৩জন , স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১জন, ছাত্র পরিবহণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১০জন, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে ১৪জন, ও সদস্য পদে ৮৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, গত কয়েকদিনে যাবৎ প্রচারণা চালাচ্ছি৷ সবার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ভোটারদের মাঝে একরকম উৎকণ্ঠা দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, ছাত্ররা তাদের যোগ্য প্রতিনিধি ডাকসুতে নির্বাচিত করবে।
প্রচারণার বিষয়ে ছাত্রলীগের এজিএস প্রার্থী সাদ্দাম হোসাইন বলেন, আমাদের প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময়ই রয়েছি আমরা। তাদের কথাবার্তা শুনছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
শিক্ষার্থীরা বলছে সবাই স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে এটা ইতিবাচক। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী নায়ীম-উল-ইসলাম পূর্বপশ্চিমকে বলেন, সবাই স্বাধীনভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছে এটা দেখে ভালোই লাছে। অন্যদিকে কিছু ছাত্র সংগঠন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মত ঘটনা ঘটিয়েছে। এ রকম ঘটনা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অন্তরায়। বর্তমান অবস্থার নিরিখে বলা যায়, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এবং প্রশাসন সচেষ্ট থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়াল লাগানো হয়েছে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন। এসব ব্যানার ফেস্টুনের অধিকাংশই ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর। যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
আচরণবিধির ৬(খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রকার স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছপালা, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোনো দণ্ডায়মান বস্তুতে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না।’
অথচ ক্যাম্পাসের মূল সড়কগুলোর গাছ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের এমন খুঁটি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে যেখানে পোস্টার বা ফেস্টুন নেই। আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময়ই বলেছে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু একটি ঘটনায়ও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রার্থীরা।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, আমরা আচরণবিধির কোনো লঙ্ঘন করিনি। সবকিছু মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছি।



