slider

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি খাসজমি লীজের শর্তভঙ্গ করে বিক্রির অভিযোগ

মোঃ মজিবর রহমান শেখ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলায় দুর্লভপুর গ্রামে সরকারি খাসজমি লীগের শর্তভঙ্গ করে অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ দুর্লভপুর গ্রামের শরিফা বেওয়া নামে এক নারী ঐ জমি ৯৯ বছরের জন্য লীজ পান। কিন্তু তিনি লীজ পাওয়া ৫২ শতক জমি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে একই গ্রামের জনৈক সফিজ উদ্দিন ওরফে পচকটুর নিকট দলিলমূলে বিক্রি করে শর্তভঙ্গ করেন।
শর্তভঙ্গের বিষয়টি জানাজানি হলে চলতি বছরের ১৭ মে এলাকাবাসীর পক্ষে মো: হাসিবুল রহমান নামে এক ব্যক্তি অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে উল্লেখিত জমি বিক্রির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে হাসিবুল রহমান জানান, ৯৫ সালের ২ জানুয়ারি রানীশংকৈলের দূর্লভপুর মৌজার, ১৯ নং জেএল ও ১নং খতিয়ানভুক্ত ২৪৭৬ দাগের ৫২শতক জমি ২৩/১৯৯৫ নং কবুলিয়াত রেজি: দলিল প্রাপ্ত হয়ে মালিক হন। কিন্তু সরকারি লীজপ্রাপ্ত খাসজমি বিক্রি ও হস্তান্তর করা যাবে না জেনেও গত ১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৫৬৪১/১১ নং দলিলমুলে উল্লেখিত ৫২শতক জমি ঐ গ্রামের সফিজ উদ্দিন পচকটুর নিকট বিক্রি করে লীজের শর্তভঙ্গ করেন। হাসিবুল রহমান বলেন, শর্তভঙ্গ করে সরকারি খাসজমি বিক্রির বিষয়টি গ্রামবাসী জানার পর লিখিতভাবে রানীশংকৈল সহকারী কমিশনার (ভূমি)’কে জানানো হলে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে জানানো হলেও কোন প্রকার তদন্ত না করায় এলাকাবাসী হতাশ হই। পরবর্তিতে এলাকাবাসীর পক্ষে আমি লিখিত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান/কমিশনার, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক, ঠাকুরগাঁও সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে দিনাজপুর জজকোর্টের এ্যাডভোকেট বিধান কুমার দেবের নিকট পরামর্শের জন্য গেলে তিনি জানান, সরকারি ঐ জমি শরিফা বেওয়া ৯৯ বছরের জন্য পত্তন পান। তিনি কবুলিয়তে সকল শর্তাবলী প্রতিপালনের অঙ্গিকার করেন। কিন্তু তিনি কবুলিয়াতের ১৩নং শর্ত ভঙ্গ করে তার নামে উল্লেখিত জমি পত্তন বাতিলযোগ্য। এতে আইনের ৮১ বি ধারা মতে কবুলিয়াতটি বাতিলযোগ্য হয়ে সরকারকে সংশ্লিষ্ট আইনের ৮৫ ধারা মতে আদালতে মামলা করতে হবে। এ ব্যাপারে শরিফা বেওয়া বলেন, ঐ সময় টাকার খুবই দরকার থাকায় উল্লেখিত ৫২শতক জমি আমি বিক্রি করে দিয়েছি। ঐ জমি টিকবে কিনা এটা তার ব্যাপার। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্রয় করা সফিজ উদ্দিন ওরফে পচকটু বলেন, ঐ সময় প্রথমে জমিটি বন্ধক ছিল। চিকিৎসার জন্য শরিফাদের টাকার খুবই দরকার হলে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছিল আমার কাছে। পরে সেই টাকা শোধ করতে না পেরে ঐ জমি আমাকে হেবা দলিল করে দেন। ধারের টাকা ফেরত পেলে জমি আবার শরিফা বেওয়াকে ফেরত দিয়ে দিব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button