slider

ঠাকুরগাঁওয়ে মৎস্যজীবী লীগের নেতাকে হত্যা মামলায় কারাগারে ইউপি চেয়ারম্যান

মোঃ মজিবর রহমান শেখ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজীবী লীগের নেতা শাকিল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কে কারাগারে পাঠিয়েছেন নিম্ন আদালত। ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি। পরে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ।
দু’পক্ষের আইনজীবীরা জানান, উচ্চ আদালতে আগাম জামিন চেয়েছিলেন মামলা প্রধান আসামি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন না দিয়ে ৬ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের শেষদিন ছিল। এ জন্য দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড ইউসুফ আলী, অ্যাড আবেদুর রহমান, অ্যাড আব্দুল হালিম, অ্যাড শেখ ফরিদ জামিনের জন্য প্রার্থনা করলে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড সৈয়দ আলম ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড শেখর চন্দ্র রায় জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড সৈয়দ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের কে বলেন, শুনানিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং দু’পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন নামঞ্জুর করে ইউপি চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, আহতদের জখমি সনদপত্র এবং তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আদালতে স্ব-শরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড আবেদুর রহমান বলেন, বিচারক পুনরায় জামিনের জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যের জেরে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা সাঈদ আলমের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সাঈদ আলমের ভাই মৎস্যজীবী লীগ নেতা শাকিল আহমেদ মারা যান। পরে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সহ ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যুবলীগ নেতা সাঈদ আলম। সেই মামলায় ঢাকা থেকে ৪ জন, দিনাজপুর থেকে ২ জন ও বালিয়াডাঙ্গী থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ এবং র‍্যাব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button