আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এবার খামেনির কার্যালয়

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ও।
গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা এবং আরো কিছু কারণে অতিরিক্ত এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে ‘ঘৃণ্য কূটনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ।
এক টুইট বার্তায় জারিফ ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘যুদ্ধে ইচ্ছুক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের আমলাতন্ত্র ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীকে দেখভাল করেন—এমন আট জ্যেষ্ঠ ইরানি কমান্ডারই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।
রাজস্ব বিভাগ আরো জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ও।
যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, রেভল্যুশনারি গার্ডকে সহায়তা করার জন্য খামেনি তাঁর বিপুল সম্পদ ব্যবহার করছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি ডলার।
মার্কিন রাজস্বমন্ত্রী স্টিভ মিনুশিন এমনুচিনের মতে, এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।
এর পর দুদেশের সম্পর্ক তিক্ততার দিকে যেতে থাকে।
পরে ইরানের ওপর আরো চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইরানের কাছ থেকে যারা তেল কেনে, তাদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
পরে ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাঙ্কারে কয়েকটি হামলার ঘটনাও ঘটে।
এরপর ইরানি কর্মকর্তারা তাঁদের ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন।
এর কয়েক দিনের মাথায় ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ইরানের দাবি, মার্কিন গুপ্তচর ড্রোনটি তাদের ভূখণ্ডে এসেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল।
‘ইরানের সীমান্ত আমাদের কাছে রেডলাইন’— ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন বার্তা দিয়েছে বলে জানায় ইরানের বিপ্লবী রেভল্যুশনারি গার্ড।
রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, ড্রোনের কাছ দিয়েই ৩৫ যাত্রীসহ একটি সামরিক এয়ারক্রাফট উড়ে যাচ্ছিল।
ওই কর্মকর্তা জানান, ওই প্লেনটিও রেভল্যুশনারি গার্ড ভূপাতিত করতে পারত, কিন্তু করেনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button