ট্রফি জিতব আমরাই-রোনাল্ডো

আগ্রাসন, আগ্রাসন, আগ্রাসন! তার এই আগ্রসী মেজাজ, বিপক্ষের বুকে ভয় জাগায়। তার এই আগ্রসী মেজাজ, ঘুম কেড়ে নেয়। তাঁর এই আগ্রসী মেজাজ, কখনো, কখনো সব সীমা ভেঙে দেয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। আগ্রাসনের ‘মুখ’ বলা হয় যাকে, সেই তিনি যে এমন মোলায়েম কথার ছুরি চালাতে পারেন! এমন মিষ্টি ভাষায়, কড়া কথা বলতে পারেন! এমন শান্ত স্বরে, হুঙ্কার দিতে পারেন! কে জানত? জানত না বলে, বুঝত না বলেই কি ‘অন্যরকম’ শোনাচ্ছে?
না, সত্যি সত্যিই ‘অন্য’ ভঙ্গিতে হুঙ্কার দিয়েছেন রোনাল্ডো, ‘জানি, ফাইনালে ফ্রান্স ফেবারিট। কিন্তু ট্রফিটা আমরাই জিতব।’ সে কী! এত বড় কথা বলছেন, তাও ফ্রান্সের মাটিতে দাঁড়িয়ে? শেষ ১০ সাক্ষাতে ফ্রান্সই তো বাজিমাত করেছে। তথ্যটা মাথায় আছে তো? এমন প্রশ্ন শুনেও বিন্দুমাত্র উত্তেজিত হননি রোনাল্ডো। উল্টে হীমশিতল স্বরে বলেছেন, ‘জানি, ফ্রান্স দেশের মাটিতে খেলছে। এও জানি, অতীতে ওদের বিরুদ্ধে আমাদের রেকর্ড কী। তবে আবার বলছি, আমরা এবার বাড়তি উৎসাহ নিয়ে মাঠে নামব। বাড়তি শক্তির প্রয়োগ করব। বলতে পারেন, অতীতের খারাপ ফলই আমাদের এবার বাড়তি কিছু দেওয়ার প্রেরণা জোগাচ্ছে।’
এখানেই থামেননি। রোনাল্ডো আরও কিছু বলেছেন, ‘আমার কাছে এই ফাইনালের গুরুত্বটাই অন্য। বরাবরই স্বপ্ন দেখেছি, দেশের হয়ে একদিন না একদিন বড় কোনও ট্রফি জিতব। ক্লাবের হয়ে অনেক ট্রফি জিতেছি। ব্যক্তিগতভাবে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু দেশের জার্সি গায়ে ইউরো জেতার তৃপ্তিটাই অন্যরকমের হবে। ওই তৃপ্তি পেতে চাই। বিশ্বাস করি, এই স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব। আমার সতীর্থরাও তাই বিশ্বাস করে। দেশের মানুষও বিশ্বাস করেন। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই ফাইনালের রাতে মাঠে নামব। মন বলছে, রোববার পর্তুগালের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।’
সত্যি এমন কথা, এমন সহজ স্বরে তিনিই বলতে পারেন! এই জন্যই তো তিনি রোনাল্ডো!



