
কামরুল ইসলাম। রাংগামাটি প্রতিনিধি: পর্যটন বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। পাহাড়, নদী, হ্রদ আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিলনভূমি রাঙামাটি যেন এই খাতের এক জীবন্ত উদাহরণ। অথচ দক্ষ গাইড ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পারদর্শী জনবল না থাকায় পর্যটকবান্ধব পরিবেশ অনেক সময় ব্যাহত হয়। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে রাঙামাটিতে আয়োজন করা হয়েছে “ট্যুর গাইড অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
আজকের দিনটি ছিল অংশগ্রহণকারীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতায় ভরপুর।
সকালে ক্লাস নেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খোকনেশ্বর ত্রিপুরা। তিনি পাহাড়ি পর্যটনের বিশেষ প্রেক্ষাপট, ট্যুর গাইডিং-এর পেশাগত নৈতিকতা ও নিরাপদ ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোকপাত করেন।
বিকেলে সেশন পরিচালনা করেন একই বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক জি এম সেলিম আহমেদ। তাঁর আলোচনায় উঠে আসে ডিজিটাল ট্যুরিজম, পর্যটক সেবা ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও স্থানীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কৌশল।
দিনশেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ তুলে দেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবিব আজম ও বাদশা ফয়সাল । এ উদ্যোগ শুধু উপহার নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রশিক্ষণ শুধু কয়েকজন তরুণকে নয়, পুরো রাঙামাটির পর্যটন শিল্পকেই নতুন দিশা দেখাবে। দক্ষ ট্যুর গাইড গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক মানে রাঙামাটিকে তুলে ধরাও সহজ হবে।
ভবিষ্যতে এই ধরণের উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ হতে পারে আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, দক্ষ সেবা ব্যবস্থাপনাই তখন হবে দেশের অন্যতম পরিচয়।




