আইন আদালতশিরোনাম

ট্যানারি মালিকরা দিনে ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবেন

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে না সরানো পর্যন্ত ১৫৪ ট্যানারির স্বত্বাধিকারীকে পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেককে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ আজ সোমবার এই আদেশ দেন।
অনুদান হিসেবে এই অর্থের অর্ধেক সরকারকে বাংলাদেশ লিভার ফাউন্ডেশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণ হিসেবে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলেছিলেন। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ‘বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’র চেয়ারম্যান। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ক্ষতিপূরণের নতুন অংক ঠিক করে দেন।
আপিল বিভাগে আবেদনকারীরপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। অপরপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান যে, প্রত্যেক ট্যানারি মালিককে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
হাইকোর্ট ২০০১ সালে এক রায়ে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ২০০৯ সালের ২৩ জুন আরেক আদেশে ট্যানারি সরানোর জন্য ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। সরকারপক্ষের আবেদনে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানোর পরও ট্যানারি স্থানান্তরের আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল হাইকোর্ট আদালত অবমাননার রুল জারি করেন।
সম্প্রতি হাইকোর্টে দাখিল করা শিল্প সচিবের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাজারীবাগের ১৫৫টি ট্যানারি কারখানার মধ্যে কেবল রিলায়েন্স ট্যানারি লিমিটেড (ইউনিট-২) কারখানা স্থানান্তর করেছে। অন্যগুলো প্রক্রিয়াধীন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও বাকি ওই ১৫৪টি কারাখানা সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে না সরানোয় গত ১৬ জুন হাইকোর্ট প্রতিদিনি ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন।
জরিমানার আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকদের দুই সংগঠনের চেয়ারম্যান চেম্বার আদালতে গেলে গত ২৮ জুন অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ ১৭ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত আপিল বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বিষয়টি আপিল আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button