জাপান থেকে আরশাদ উল্লাহ : গত রোববার প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে টোকিওতে আনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী মেলা ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।
বিগত দেড় দশক যাবত টোকিওতে এপ্রিল মাসে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর টোকিওর পশ্চিম ইকেবুকোরোতে প্রশস্থ মাঠে এই মেলা সরগরমে হয়েছে। এবার মেলাটি হয় পূর্ব ইকেবুকুরো মাঠে। সত্তর তলা ‘সান শাইন সিটি’ বিল্ডিংটির পাদদেশে যে মাঠটি আছে সেখানে। সেটাকে ‘হিগাশি ইকেবুকুরো কোয়েন’ বলে। ‘কোয়েন’ অর্থ বাগান। সত্তর তলা সান শাইন সিটি বিল্ডিংটি এত বড় যে সেটাকে ছোট খাটো একটি রাষ্ট্রের সাথে তুলনা করলে ভুল হবে না। কারণ, তার ভিতরে রয়েছে শত শত দোকান এবং রেষ্টুরেন্ট। একুয়ারিয়াম ও প্লানেটারিয়াম রয়েছে। লক্ষ লক্ষ লোক সেখানে কেনাকাটা ও বিভিন্ন প্রদর্শনি দেখতে যায়। বিশেষ করে শনিবার এবং রোববারে।
হিগাশি ইকেবুকুরো মাঠটি আকারে নিশি ইকেবুকুরো মাঠের চেয়ে কিছুটা ছোট। এবার প্রচুর লোক সমাগম হয়েছে। আর, স্থাপন করা হয়েছে অনেক বাঙ্গালি খাবারের দোকান এবং রেষ্টুরেন্ট। দুটি বাংলা বইয়ের স্টল। স্টেজে স্থানীয় বাংলাদেশিরা গান, নৃত্য এবং কবিতা আবৃত্তি করেছে। শিশুরাও অংশ গ্রহণ করেছে।

বাঙালি খাবার খেতে জাপানিদেরও সমাবেশ হয়। আমার জানামতে সারা জাপানে রয়েছে পনের হাজার বাংলাদেশি। অন্যান্য দেশের প্রবাসিদের চেয়ে অনেক কম। কিন্তু মেলা যখন হয় তখন দূর দূরান্ত থেকে বাঙ্গালিরা সপরিবারে ছুটে আসেন। তাদের কাছে দূরত্ব কোন ব্যাপার নয়। বৎসরের এই দিনটিতে বাঙ্গালিরা এখানে এসে আনন্দ পায়। বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্যও অনেকে আসেন।
নিশি (পশ্চিম) ইকেবুকুরো কোয়েনে ২০২০ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। তাই এবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এবার হিগাশি ইকেবুকুরো মাঠে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হল ।




