বিবিধশিরোনাম

ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন আইএসপিএবি ও কোয়াব

আইএসপিএবি ও ক্যাবল টিভি অপারেটরদের কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই প্রধান সড়কসহ সকল সড়ক থেকে ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণ করা শুরু করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে গত দুই মাসে আনুমানিক ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে আইএসপিএবি ও কোয়াবকে।
গতকাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়েছে। সমস্যার সমাধানে সংগঠন দু’টির পক্ষ থেকে ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় তারা জানান, আগামী ১৭ই অক্টোবরের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান না করা হলে আমরা আগামী ১৮ই অক্টোবর রোববার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সারা দেশে বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট ডাটা কানেক্টিভিটি এবং ক্যাবল টিভি বন্ধ রাখার প্রতীকী কর্মসূচি পালন করবো। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সৌন্দর্য্য বর্ধনের লক্ষ্যে ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণে গৃহীত ঢাকা দক্ষিণ সিটির এই সিদ্ধান্তকে আইএসপিএবি ও কোয়াবের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। তবে সেই সঙ্গে কোনো আগাম নোটিশ না দিয়ে, কয়েক লাখ ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত না করে কোটি কোটি টাকার ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণ কোনো যৌক্তিক সমাধান নয় বলে মনে করছি। এর ফলে কয়েক লাখ ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি গ্রাহক যেমন ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
একইসঙ্গে চলমান অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হবে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। পাশাপাশি এসব এলাকায় করোনায় সেবাদাতা হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ অনলাইন স্বাস্থ্যসেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে এবং হবে। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের ইন্টারনেট ও ক্যাবল সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই মহামারির সময়ে বেকার হয়ে পড়বেন ১০০০টি বৈধ আইএসপি ও কোয়াবের প্রায় লক্ষাধিক কর্মীসহ ৩৩টি স্যাটেলাইট টিভিতে কর্মরত অসংখ্য সাংবাদিক ও কর্মীরা। যা এই মহামারির সময় অমানবিক এবং একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার পথে অন্তরায়। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের ২৬০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগ প্রদান করে আওতায় এনে গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইন্টারনেট ক্যাবল কেটে কয়েক লাখ ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভির সেবাগ্রহীতার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে শহরকে গ্রামে রূপান্তরিত করছেন। যা দুঃখজনক ও প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সিদ্ধান্তের অন্তরায়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণের পর প্রায় কয়েক লাখ বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সংযোগ পুনঃস্থাপন ও সংযোগের জন্য স্থায়ী ক্যাবল ব্যবস্থা বিষয়ে কোনো প্রকার সমাধান না করেই প্রতি আইএসপি’র জন্য ২৫ লাখ টাকা করে বাৎসরিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই যৌক্তিক বলে মনে করছে না আইএসপিএবি। এর ফলে নিবন্ধিত বৈধ ইন্টারনেট সেবাদাতা সংস্থাগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং আইএসপিগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া, প্রতি ২০০ মিটার অন্তর এলডিপি (লোকাল ডিসট্রিবিউটর পয়েন্ট বা পিওসি-পয়েন্ট অব সেল) বসানো উচিত হলেও মাঠ পর্যায়ে করা জরিপে আমরা দেখতে পাই, এনটিটিএন কর্তৃক তা বসানো হয়েছে প্রায় ১-২ কি.মি অন্তর। এতে ২০০ মিটারের স্থলে ক্যাবল টানতে হচ্ছে ১-২ কি.মি। যাতে মূল লক্ষ্য শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধনও ব্যাহত হচ্ছে। তারা জানান, ফাইবার অপটিক ক্যাবল পুনঃস্থাপন ও ইন্টারনেট সেবায় নিয়োজিত আইএসপিসহ কোয়াবের কর্মীরা পুলিশি হয়রানির মতো বেশকিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। যা দুঃখজনক। ভবিষ্যতে আমাদের কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ সকল নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বিক সহায়তা করবেন বলে আশা করছি। সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি এবং কোয়াব ৫টি দাবি তুলে ধরে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে লাস্ট মাইল ক্যাবলের স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত কোনো ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণ করা যাবে না। আইএসপিএপি, কোয়াব, বিটিআরসি, এনটিটিএন এবং সিটি করপোরেশন সমন্বয়ে লাস্ট মাইল ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে একটি কমিটির মাধ্যমে সরজমিন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবা স্বল্পমূল্যে দেয়ার লক্ষ্যে এনটিটিএনের মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করতে হবে। গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে নিশ্চয়তার পক্ষে এনটিটিএনগুলোর সার্বিক সক্ষমতা আছে কিনা তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবি’র সভাপতি এম এ হাকিম, কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button