sliderস্থানিয়

ঝিনাইগাতীতে ভারতীয় মালামাল ও মাদক জব্দ করা হলেও গ্রেপ্তার হচ্ছেনা মূল চোরাচালানী চক্র

মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্ত পথে বানের পানির মতো ভেসে আসছে ভারতীয় মালামাল ও মাদক।

মালামাল ও মাদক জব্দ হলেও রহস্য জনক ভাবে গ্রেপ্তার হচ্ছেনা চোরাচালানী চক্র। আর কখনো কখনো গ্রেপ্তার করা হলেও বড়জোর বাহকদের। ফলে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আসল গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে সব সময়ই ধরা ছোঁয়ার বাইরে! বাহকরা গ্রেপ্তার হলে ও তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয় দায়সারা গোছের ধারায় মামলা দিয়ে। ফলে আসামিদের জামিন হয়ে যায় এক দুই সপ্তাহের মধ্যেই। কিন্তু গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসা বাদের মাধ্যমে প্রকৃত চোরাকারবারিদের গ্রেপ্তারের আইনগত কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না! ফলে বেড়েই চলেছে চোরাচালানী। এদিকে পৃথক অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় মদ ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতভর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাটের নামছাপাড়া ও ডুমনিকুড়া এবং শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ফাকরাবাদ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে অভিনব কৌশলে পাচারের চেষ্টা করা ভারতীয় মদ ৩৮৮ বোতল, ওরিও বিস্কুট ২১৬০ প্যাকেট, ফুচকা ৮০ প্যাকেট, নেভিয়া সফট ক্রিম ২৮৩০ পিস, জিলেট ব্লেড ১ লাখ ২০ হাজার পিস, ৮টি কম্বল এবং একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। কিন্তু চোরাকারবারিতো দূরের কথা, পিক আপ ড্রাইভারকে পর্যন্ত আটক করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা!

আটককৃত এসব মাদক ও চোরাচালানী মালামালের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ৮শ টাকা। অপর দিকে এরিপোর্ট লিখা পর্যন্ত শেরপুর সীমান্তের রাংটিয়ার এক পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সেখান থেকে ৪ বস্তা মাদক উদ্ধার অভিযান চলছে। থানার আনার পর গননা করার পর বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত জানা যাবে। আপাতত চার বস্তা মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। অপ্রতিরোধ্য ভাবে ভারতীয় মালামাল ও মাদক বানের পানির মতো ভেসে আসলে ও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির প্রায় প্রত্যেক সভায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা স্বত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিজিবি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মুল হোতাদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতায় উদ্যেগ প্রকাশ করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button