slider

ঝালকাঠি মহিলা কলেজে ভর্তি হতে ব্যাংক একাউন্ট বাধ্যতামূলক, নেয়া হচ্ছে অঙ্গিকার

মোঃ শাহাদাত হোসেন মনু, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : সরকারী কোন নিয়ম-নীতি না থাকলেও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় হয়রাণির শিকার হচ্ছে ভর্তিচ্ছুরা। ঝালকাঠি জেলা শহরে দুটি সরকারী কলেজ এবং শহরতলীর অন্যান্য কলেজগুলোতে এমন কোন নজির না থাকলেও ঝালকাঠি সরকারী মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের বাধ্যতামূলক ব্যাংক হিসেব নম্বর খুলতে বলা হচ্ছে। বিষয়টি বাইরে কাউকে না জানানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রাখা হচ্ছে অঙ্গিকারনামা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ঝালকাঠি সরকারী মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ৫টি বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে অনলাইন আবেদন করে শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি জারী করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংক হিসেব খোলার
কোনও বিষয়ে অবহিত করা হয়নি ভর্তিচ্ছুদের। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে গেলেই ব্যাংক হিসেব খোলা নিয়ে পড়ে মহাবিপাকে। ভর্তির টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত আরো দুই শত টাকা এবং প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্র গুছিয়ে দিতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিওে গেছে অনেকে শিক্ষার্থী। ঝালকাঠির অন্য কোন কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার কোন নির্দেশনাই নেই।
এছাড়াও কলেজে ভর্তিতে অনিয়মের বিষয়ে যাতে কেউ বাহিরে কারো কাছে কোন তথ্য প্রকাশ না করতে পারে এজন্য রাখা হচ্ছে অঙ্গিকারনামা। অঙ্গিকারনামায় প্রথম দিকে কলেজের কিছু বিষয়ে উল্লেখ রাখলেও শেষ দিকে তথ্য বাইরে প্রকাশ না করার নির্দেশনা রয়েছে। অঙ্গিকারনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, “ ১। ক্লাশ শুরুর দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারিত কলেজ ইউনিফর্ম তৈরী করে নিয়মিত কলেজে আসবো। ২। ন্যুনতম ৭৫% ক্লাশে উপস্থিত থাকবো। ৩। কলেজ কর্তৃক গৃহিত সকল পরীক্ষায় অবশ্যই
অংশগ্রহণ করবো। ৪। কলেজ ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবো না। ৫। ভর্তি ফরমে মোবাইল নম্বর সঠিক লিখবো। ৬। কলেজ বা কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফেইসবুকসহ যে কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদ মাধ্যমে কোন প্রকার
তথ্য পরিবেশন করবো না। ৭। কলেজ কর্তৃপক্ষের ন্যায়সঙ্গত/আইনসঙ্গত সকল সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকবো। ”

“আমি আরো অঙ্গিকার করতেছি যে, আমার দ্বারা উপর্যুক্ত নির্দেশনাসমূহের যে কোন একটির ব্যত্যয় ঘটলে কলেজ কর্তৃপক্ষের আইনানুগ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকবো।” বলেও অঙ্গিকারনামায় উল্লেখ করা হয়। এবিষয়ে সোনালী ব্যাংক ঝালকাঠি কোর্ট বিল্ডিং শাখার ব্যবস্থাপক দেবাশীষ কুন্ডু জানান, “সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের পরামর্শক্রমে ছাত্রীদের
সুবিধার্থে সুলভ মূল্যে ভর্তির জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬জন ব্যাংক কর্মকর্তা ওখানে নিয়োজিত করা হয়েছে এই কাজ সম্পাদনের জন্য। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারী কলেজে কর্তৃপক্ষ সোনালী ব্যাংক কলেজ শাখা এজেন্ট’র মাধ্যমে তাদের একাউন্টে টাকা জমা নিয়ে ডিজিটাল রসিদ দিচ্ছে। আর তা দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারছে।”

ঝালকাঠি সরকারী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হেমায়েত উদ্দিন মুঠো ফোনে জানান, “বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা জমা দিলে বেশি খরচ পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিজ নিজ নামে অ্যাকাউন্ট করে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই অনলাইনে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমকে সহজ করতেই এ পদ্ধতি নেয়া হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “যাদের অ্যাকাউন্ট করার মতো প্রস্তুতি নেই তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা ভিন্নভাবে তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”

অঙ্গিকারনামা সম্পর্কে তিনি বলেন, “ভর্তির পরে কলেজের নিয়মকানুন জানে না, তাছাড়াও অবাধ ডিজিটাল যুগে বিভিন্ন গুজব ছড়াতে পারে। তাই ওদের কাছ থেকে অঙ্গিকারনামা নেয়া হয়েছে” বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button