slider

ঝালকাঠির শ্রীমন্তকাঠী স.প্রা.বি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

মোঃ শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি প্রতিনিধি : বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত, স্কুলের বিভিন্ন মালামাল কেনার নামে অতিরিক্ত বিল-ভাউচার দাখিল, বিদ্যালয়ের সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, রেজুলেশন খাতা ফাকা রেখে জোর করে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়া সহ গুরুতর অভিযোগ সহ রয়েছে নানা রকম অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শ্রীমন্তকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী ইন্দুর বিরুদ্ধে, ঠিকাদারের সাথে যোগযাজশে কমিটির কোন রকম সিদ্ধান্ত ছাড়াই ২০০৮ সালে নির্মিত একটি ভবন বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী ইন্দুর বিরুদ্ধে। তার আর্থিক দূর্নীতির কারণে প্রধান শিক্ষকের জরুরী বদলির জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের খোদ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিকাশ হাওলাদার। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সালে কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব চাওয়া হয়। এতে কমিটির সকল সদস্যকে অবমাননা করেন প্রধান শিক্ষক। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে মৌখিকভাবে
অভিযোগ করা হলে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সরকারি বরাদ্দকৃত শ্লিপ’র ৫০ হাজার টাকা ও নিয়মিত মেরামতের ৪০ হাজার টাকা মোট ৯০ হাজার টাকার মধ্যে ২৬ হাজার টাকার হিসাব দিতে ব্যর্থ হন প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী ইন্দু।
অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিকাশ হাওলাদারের স¦াক্ষর জাল করে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত দেড় লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছেন প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী ইন্দু। এই দেড় লাখ টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে শিশুদের জন্য মাত্র তিনটি খেলনা নির্মাণ করেছেন। এই খেলনা নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরায় প্রধান শিক্ষকের উপরে ক্ষিপ্ত হয়েছেন কমিটির সদস্যরা ও স্থানীয়রা । স্থানীয়দের শান্ত করতে প্রধান শিক্ষক তার মনগড়া একটি বিল ভাউচার তৈরি করে দাখিল করেছেন। যেখানে ঝালকাঠির স্টেশন রোডের সিটি ওয়ার্কসপ এন্ড স্টীল হাউজ নামের একটি দোকানের মেমোতে জিআই পাইপের দাম ৭৮হাজার টাকা, অডিনারি পাইপ ৪ হাজার ৮’শ টাকা, এমএস চেইন ১২ হাজার ও রিং প্লাটি হুক ১৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। পাশ^বর্তী পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার মোর্শেদা হার্ডওয়ার ষ্টোর নামের একটি দোকান থেকে দুই গ্যালন বার্জার রেড অক্সাইড ২ হাজার টাকা ও দুই গ্যালন বার্জার প্যাইন্ট ৩ হাজার টাকা। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার মেসার্স রাফিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানের ১৫বস্তা সিমেন্ট ও বালুসহ ১৬ হাজার টাকা খরচের একটি ভাউচারে দেখিয়েছেন। এছাড়া এই তিনটি খেলনার তৈরি বাবদ ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাহের রোডের মেসার্স মাহামুদ মেটাল
নামের একটি দোকানের ৯ হাজার ২’শ টাকার একটি ভাউচার দেখানো হয়েছে। তবে এই সকল ভাউচারে হাতের লেখা একই রকমের দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা প্রধান শিক্ষক নিজে অথবা তার মনমত কোন ব্যক্তিকে দিয়ে মনগড়া এই বিল ভাউচার তৈরি করিয়েছেন। এলাকাবাসী এই বিল ভাউচার তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী ইন্দুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী ইন্দু বলেন, ‘২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ২৬ হাজার টাকা আমার কাছে আছে। আমি এই টাকা দিয়ে মাঝে মাঝে স্কুলের কাজে ব্যয় করি। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত দেড় লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের সময়ে আমি বিদ্যালয়ের সভাপতির স্বাক্ষর নেইনি। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমকর্তা)’র স্বাক্ষর নিয়ে এই টাকা তুলেছি। সভাপতির স্বাক্ষর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তিনটি খেলনা নির্মাণে দেড় লাখ টাকা খরচ এটা অস্বাভাবিক ব্যয় কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন কথা বলেন নি।
এছাড়া স্কুলের অন্য ভবনটি বিক্রির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি এব্যাপারে কিছুই জানিনা। এটা উপজেলা শিক্ষা অফিস বলতে পারবে। আমার সাথে ঠিকাদারের কোন যোগশাজস নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ৭তারিখে আমি ওই স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম তখন আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (টিইও) স্বাক্ষর প্রদানের বিষয়টি সম্পর্কে ডিপিইও জানান, এসব টাকা উত্তোলনে সাধারনত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির স্বাক্ষর থাকে। কিন্তু সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া টিইও’র স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমার বোধগম্য না। সদর উপজেলার টিইও হিসেবে গতকাল নতুন একজনে যোগদান করেছেন। পূর্বের বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button