slider

ঝালকাঠিতে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা করে গতিবিধি মনিটরিং করছে পুলিশ

মোঃশাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রস্তুত করে তালিকা অনুযায়ী মোবাইল নম্বর ট্রাক করে গতিবিধি মনিটরিং করছে জেলা পুলিশ। তাদের অপরাধ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জানান ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল।

জানাগেছে, কিশোর গ্যাং স্টারদের তালিকা না থাকায় তারা একের পর এক দুর্র্ধষ অপরাধ করে নির্বিঘেœ পার পেয়ে যাচ্ছে। আবার কখনো এ চক্রের দু’চারজন গ্রেপ্তার হলেও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা গডফাদাররা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে কিংবা রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে তাদের অনায়াসেই ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত অপরাধীদের কাউকে দলীয় কর্মী, আবার কাউকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে জাহির করেন। পুলিশের হাতে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় স্থানীয় চাপে অনেক সময় পুলিশকে তা মেনে
নিতে হয়। এতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ও ইন্ধনদাতারা অধরাই থেকে যাচ্ছে। উদ্বিগ্ন এ পরিস্থিতিতে কিশোর অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের গডফাদারদের সামাল দিতে ডাটাবেজ তালিকা তৈরি কাজ সম্পন্ন করেছে জেলা পুলিশ। এবারের তালিকায় অপরাধীদের নাম-ঠিকানা-ছবি
ছাড়াও তার পিসিআর (প্রিভিয়াস ক্রাইম রেকর্ড), শারীরিক বিশেষ চিহ্ন, মাদক নেশায় আসক্তি আছে কি না, থাকলে কোন ধরনের মাদক- এসব তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত এসব কিশোর কোনো অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে তাৎক্ষণিক তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে তা
ওই সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে তার সংঘটিত অপরাধের বিষয়টিও লিপিবদ্ধ থাকবে। যা পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি থানার পাশাপাশি র‌্যাব, এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ), ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ), সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট), পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থা একই সার্ভারে ঢুকে নির্বিঘেœ সার্চ করতে পারবে। এতে অপরাধীরা কেউ এলাকা বদল করে অন্য কোথাও নতুন গ্রæপ তৈরির চেষ্টা করলে তাদের সহজেই শনাক্ত করা যাবে।

নতুন এই ডাটাবেজে কিশোর অপরাধীদের তালিকায় তাদের অভিভাবকদের নাম-ঠিকানা, ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও টেলিফোন নম্বর এবং তাদের কর্মস্থলের বিবরণ লিপিবদ্ধ রাখা হচ্ছে। যাতে যে কোনো প্রয়োজনে তাদের মাধ্যমে এসব অপরাধীর অবস্থান দ্রæত নিশ্চিত হওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্কুল-কলেজের কোনো শিক্ষার্থী কিশোর গ্যাংস্টার হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে। যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখে।

কিশোর অপরাধীদের নামের তালিকা তৈরি করে তাদের কারাগারে পাঠানো মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং তাদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এর মূল টার্গেট। তাই তালিকাভুক্তির পাশাপাশি সন্তানদের ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন করাসহ বেশকিছু ভিন্নমুখী কার্যক্রমও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষ করে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াল থাবা এবং অপরাজনীতি থেকে দূরে রাখার ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিশোররা রাজনৈতিক নেতাদের অনুসারী হতে চাইলে নেতারা তাদের দলে টেনে নেন। এসব কিশোরকে তারা নানাভাবে তাদের হিরোইজম (!) প্রকাশের সুযোগ করে দেন।
তাই কিশোর অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণের আগে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা গডফাদারদের চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়েও ভাবছে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।

পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, ঝালকাঠি জেলা পুলিশ অপরাধ প্রতিকারের পাশাপাশি প্রতিরোধেও তৎপর রয়েছে। শিশুরা যাতে গ্যাং কালচারে অন্তর্ভূক্ত হয়ে সহিংস ও অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার টিম শহরের বিভিন্ন স্থানে মহড়া ও অভিযান পরিচালনা করে থাকে। গ্যাং কালচার রোধে প্রত্যেক বিটে ওপেন হাউস ডে, অপরাধ প্রতিরোধে সভা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলমান আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মাদক, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ, বাল্য বিবাহ, যৌতুবরোধী মনোভাব স্কুল, কলেজ ও
অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। ঈদ মার্কেটে যাতে নারী ক্রেতারা নির্বিঘেœ কেনাকাটা করতে পারে, কোন ভাবে যাতে ইভটিজিংয়ের স্বীকার না হয় সে বিষয়েও পুলিশ তৎপর রয়েছে। কোন অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কোন ঘটনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে।

এছাড়াও জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে দ্রæত সেবা প্রদানে সচেষ্ট ভ‚মিকা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকারের চাহিদা মতো একটি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ মুক্ত আদর্শ সমাজ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button