উপমহাদেশশিরোনাম

জেলে গুরমিতের সঙ্গ পেতে যা করছেন অস্থির হানিপ্রীত

ভারতে ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ‘ধর্মগুরু’ ডেরা সাচা সৌদ প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ‘পালিত কন্যা’ হানিপ্রীত ইনসানের একটি নির্ঘুম রাত কাটলো জেলে। রিমান্ডের পর শুক্রবার তাকে জেলে দেয়া হয়। সূত্র জানিয়েছে, প্রথম রাতে তিনি রাতের খাবারও খাননি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে প্রকাশ, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে জেলে পাঠায় পাঁচকোলা আদালত। তার সঙ্গী হয়ে আছেন তার আরেক সহযোগী সুখদীপ কাউর।
সূত্র বলছে, জেলে প্রথম রাতে ‘ভালো ঘুম হয়নি’ হানিপ্রীতের। পুলিশ হানিপ্রীত ও সুখদীপকে কঠিন নিরাপত্তার মাধ্যমে পাঁচকোলা থেকে আমবালায় নিয়ে আসে। এ জেলায়ও গুরমিতের কয়েক হাজার সমর্থক রয়েছে।
সূত্রের খবর, হানিপ্রীত ও সুখদীপকে হাই সিকিউরিটি নারী সেলে অন্য নারী বন্দিদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাদের দেখভালের জন্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে একজন নারী কনস্টেবলকে।
গুরমিত গ্রেফতার হয়ে পড়ায় অনেক দিন হয়ে গেল তার সাথে দেখা হচ্ছে না হানিপ্রীতের। তাই জেলে আসার পর হানিপ্রীত গুরমিতের সাথে দেখা করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছেন। সূত্র বলছে, জেলে আসার পরপরই তিনি গুরমিতের সাথে দেখা করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুনয়-বিনয় শুরু করেছেন।
তার শারীরিক পরীক্ষার সময় তিনি অভিযোগ করেছেন, তার স্বাস্থ্য খুব খারাপ এবং উচ্চ মাত্রায় নাড়ি স্পন্দন হচ্ছে। তিনি আরো জানান তার মাথা ব্যাখা ও শরীর ব্যাথার কথা।
আমবালা সরকারি হাসপাতালের তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তাদের একজন ড. অর্পিতা গর্জ বলেন, ‘তিনি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তার নাড়ি স্পন্দন ভাবনার চেয়েও ভালো আছে।’
সূত্র বলছে, হানিপ্রীত ও সুখদীপ একে অন্যের সাথে কথা বলছেন না। শনিবার সকাল ৬টায় জেলের স্টাফরা তাদের দু’জনকে ঘুম থেকে উঠান এবং গোসলের জন্য পাঠান। তাদেরকে চা ও দুই পিস পাউরুটি দেয়া হয়।
গত ২৫ আগস্ট জোড়া ধর্ষণকাণ্ডে গুরমিত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার দিন থেকেই ফেরার ছিলেন হানিপ্রীত। গুরমিতকে দোষী সাব্যস্ত করার পর সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ৩৬ জন লোক। এ সহিংসতায় হানিপ্রীতকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালত থেকে জেলে যাওয়ার পথে বাবাকে নিয়ে পালানোর ছক কষেছিলেন। গত ৩ অক্টোবর গ্রেফতার হন তিনি।
জেলে গুরমিতের যৌন অস্থিরতা
এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারের পর জেলে গুরমিতের যৌন অস্থিরতার খবর পাওয়া যায়। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা একজন চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, গুরমিত এক ধরনের উইথড্রয়াল সিম্পটমে ভুগছেন। তিনি পাক্কা সেক্স অ্যাডিক্ট। জেলে লালসা মেটানোর কিছু না মেলায় অস্থির হয়ে উঠেছেন। এই সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু দেরি করলে সমস্যা বাড়তে পারে।
তিনি আরো জানিয়েছিলেন, ‘রাম রহিমের ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে, অসুস্থ লাগছে, অস্থিরতায় ভুগছেন। তবে ডেরা সাচা সৌদা প্রধান ড্রাগও নিতেন কিনা এখনো পরিষ্কার নয়। ’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button