জুরাছড়ি কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি, শান্তি এবং মঙ্গল কামনা
নিজস্ব প্রতিনিধি, জুরাছড়ি : সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক সৃষ্ট্য পাহাড় দসের নিহতদের সৎজ্ঞাতি ও দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি, শান্তি এবং মঙ্গল কামনায় সোমবার জুরাছড়ি উপজেলার আমতলী ধম্মোদয় বন বিহারে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে।
বুদ্ধের সময় কালে উপাসিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরী এবং সেই সুতার চীবর তৈরী কাজ শুরু হয় বিহারে গত কাল (রবিবার) থেকে। স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মালম্বী উপাসক-উপাসিকারা অনেক পূণ্যলাভের আশায় সারা রাত চরকার মাধ্যমে তুলা থেকে সুতা করে, সুতা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রং দিয়ে বেইনের মাধ্যমে তৈরী করা হয় চীবর। সোমবার শোভা যাত্রা সহকারে বিকাল বেলায় ভিক্ষু-সংর্ঘের উদ্দিশ্যে উৎসর্গ(দান) করার লক্ষ্যে তৈরী কৃত কঠিন চীবর মঞ্চে আনা হয়।
কঠিন চীবর দান উপলক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় কায্য করা হয়। বিকাল বেলা মূল অনুষ্ঠানে কঠিন চীবর দান, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, কল্পতরু দান, প্রদীপ পূজা, পঞ্চশীল গ্রহনসহ ভিক্ষু সংর্ঘের কাছে পরিত্রান প্রার্থনা করা হয়।
এ সময় স্বাগত বক্তব্যে কেতন চাকমা সম্প্রতি পাহাড় দসে নিহতদের সৎজ্ঞাতি কামনা করেন। এছাড়া দেশে অশুভ শক্তি থেকে সকলের নিরাপদে শান্তিতে বসবাসে প্রার্থনা জানান।
জুরাছড়ি জোনের প্রতিনিধি মেজর মরশেদ বলেন, পাহাড়া শান্তি-সম্প্রীতি উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে সেনা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন, বুদ্ধের মৈত্রী মন্ত্র নিয়ে সম্মিলিত ভাবে সুষম উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা বলেন, সকলে বুদ্ধের আর্দশ্য ধারন করে এলাকার আইন শৃংখলা স্বাবাবিক রেখে উন্নয়নে সকলকে সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় রাজ বন বিহারের আবাসিক অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবীর, জ্ঞান প্রিয় মহাস্থবীর, সর্ধম্মা স্থবীর বুদ্ধে অমৃত বানী আলোক পাঠ করেন।
এ সময় জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সুরেশ কুমার চাকমা, আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রর্বতক চাকমাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।




