জুরাছড়িতে অতিবৃষ্টিপাত : ২৫ কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট

সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি : সম্প্রতি অতিবৃষ্টিপাতে কারণে জুরাছড়ি উপজেলায় রাস্তা-ঘাট-ব্রীজ-কালভাট ভাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিনষ্ট হয়েছে প্রায় ২৫কোটি টাকার সম্পদ বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবী করেছেন।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জুরাছড়ি ইউনিয়নের কুসুমছড়ি, লুলাংছড়ি, মিতিঙ্গ্যাছড়ি, উপজেলা সদর বালুখালী, আমতলী, ঘিলাতলী, শিলছড়ি, বনযোগীছড়া ইউনিয়নের বহেরাছড়ি, বেকাব্যাক্যে, ধামাইপাড়া, বড়ইতলী, চিত্তিমাছড়া, এরাইছড়ি, হাল্যারামপাড়া, চকপতিঘাট, চেয়াম্যানপাড়া, বনযোগীছড়া সদর, চুমাচুমি, শুকনাছড়ি গ্রামে বোরো চাষীরা কিছু ফসল ঘরে তুলেও প্রায় অংশ পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট্য কৃষকদের দাবী।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপজেলা উপসহকারী বিদ্যুৎ কুমার চৌধুরী ও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এটিএম কামাল উদ্দিনের দাবী বিগত বোরো মৌসুমে ৩৩৫ হেক্টর চাষাবাদ ফসল কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তাবে চলতি মৌসুমের উপসি ১৫.৭৫ হেক্টর, আউশ (জুম) ৪২ হেক্টর, আউশ বীজতলা ১ হেক্টর, শাক-সবজি ৮১ হেক্টর, ফলবাগান ৩৮ হেক্টর জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে সরকারী প্রদত্ত বোরো চাষের ৪৭ প্রদর্শনী সম্পর্ন ভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে লিখিত তথ্যে দেখা গেছে।
এদিকে এলজিইডির বাস্তবায়িত বিভিন্ন রাস্তাঘাট ঘুরে দেখা গেছে ভাঙ্গন আর ভাঙ্গন। এছাড়া জুরাছড়ি ইউনিয়নের থানা সংলগ্ন পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের নবনির্মিত বক্স কালভাট ও ওয়াল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত বনযোগীছড়া ইউনিয়নের শুকনাছড়ি, জুরাছড়ি ইউনিয়নের লুলাংছড়ি খাগড়াছড়ি উপর সেতু, সাপছড়ি ছড়ার উপর সেতুর অসংখ্য পাহাড়ী ঢল এসে জত বেঁধে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিমত পাহাড়ী ঢলে বড় বড় গাছপালা ও জোট পারমিটের কাঠ ভেসে আসায় এসব সেতুর উপর আঘাট আনে। সেতুর উপর জত বাঁধলে ভিত্তির মাটি ৬০-৭০ফুট গর্ত তৈরী হলে এক পর্যায়ে সেতু ডেবে যায়।
লুলাংছড়ি মৌজার হেডম্যান মায়া নন্দ দেওয়ান, স্থানীয় কার্ব্বারী পাত্তর মুনি চাকমাসহ কয়েকজন গ্রাম বাসী জানান, হঠাৎ করে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ভেঙ্গে বড় ধরনে গাছ শিকরসহ ভেসে আসে। জনসাধারণে প্রাথমিক ভাবে ঢল ছড়ানোর চেষ্টা করা হলেও প্রবল পানির স্রোতের কারণে আর ঢল ছড়ানো সম্ভব হয়নি।
দেওয়ান এন্টার প্রাইজের মালিক সুমতি বিকাশ দেওয়ান বলেন, রাস্তা উন্নয়নের লক্ষে ইট, কংকর, সিমেন্ট, রডসহ সম্মিলিত ভাবে ১৫ লক্ষ টাকার অধিক মালামাল নষ্ট ও পানিতে তলিয়ে গেছে।
ছালেহা এন্টার প্রাইজের মালিক মোঃ কামাল জানান, ব্রীজ নির্মাণের লক্ষে ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছি। তার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকার অধিক রড, বালি, সিমেন্ট ও কংকর পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ী ঢল ও জোট পারমিটের কাঠ ভেসে আসায় ব্রীজে পানি আটকে যায়। একপর্যায়ে ব্রীজের ভিত্তির মাটি সড়ে গেলে ব্রীজ ঢেবে পরে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইমাম হোসেন জানান, প্রাথমিক জড়িপ করে এলজিইডির বাস্তবায়িত রাস্তাঘাট প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা প্রায় ক্ষয়-ক্ষতি ধরা হয়। এসব রাস্তা দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী পল্লব চাকমা মুঠো ফোনে জানান, উপজেলা থানা সংলগ্ন বক্স কালভাট ও ওয়াল নির্মাণের কাজ প্রবল পানির বর্ষনে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগে কখনো দেখা যায়নি। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ী ঢল নামায় ব্রীজ, কালভাটসহ শতএকর শাক-সবজি, ফল বাগান, ধান্য জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা জানান, ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির পাশা-পাশি তলিয়ে গেছে কৃষকদের সোনালী ফসল। নতুন ভাবে বিশেষ ভিজিডি চালু করা না গেলে খাদ্যের সংকটের আশংক্ষা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ব্রীজ ও কালভাটের ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের তলিয়ে গেছে ফসল ও ঘর-বাড়ী। এসব ক্ষতি-গ্রস্থ্যদের তালিকার তৈরীর কাজ চলছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা জানান, এই প্রথম বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলা জুড়ে অতুলনীয় ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। যা নিরুপন করা খুবই মুশকিল। তবে অনুমান করা হচ্ছে ২০কোটি টাকা হতে পারে।
১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত সেতুতে জত বাঁধা অবস্থায় পাহাড়ী ঢল। শুক্রবার সকালে লুলাংছড়ি সাপছড়ি-গবছড়ি থেকে তোলা ছবি।




