বিবিধশিরোনাম

জীবন পালটে যাচ্ছে সেই আসল ‘মোগলি’র

বয়স মাত্র ২১ বছর। কিন্তু আর পাঁচজন সাধারণ যুবকের মতো দেখতে নয়। সারাদিন জঙ্গলে থেকে ঘাস–পাতা কিংবা কলা খাওয়ার অভ্যেস। বাড়ির রান্না মুখেও তোলেন না তিনি। আর মা–বাবা ছাড়া অন্য কোনও মানুষ দেখলেই এক দৌড়ে জঙ্গলের ভিতর। হ্যাঁ, এটাই ছিল আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডার এলির জীবনযাত্রা । আর এ জন্যই রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের গল্পের সেই ‘‌মোগলি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল এলিকে । সম্প্রতি এক টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিরল রোগে ভোগা এলির দুর্দশার কথা জানিয়েছিলেন তার মা। আর এবার সেই চ্যানেল দাঁড়িয়েছে এলি ও তার মায়ের পাশে। শুরু হয়েছে ফান্ড জোগাড়ের কাজ। লক্ষ্য তাদের জীবনযাপনের দুর্দশা ঘোচানো।
‘আফ্রিম্যাক্স’ নামের স্খানীয় টিভি চ্যানেলটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এলির মা জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের প্রথম পাঁচটি সন্তানকে হারিয়েছিলেন। একটা সময় তার মনে হয়েছিল, এজীবনে হয়তো মাতৃত্বের স্থায়ী সুখ তাঁর অধরাই থেকে যাবে। সেই সময়ই ১৯৯৯ সালে তাঁর জীবনে আসে এলি। কিন্তু তবুও সেই সন্তানের জীবনে কোনও সুখের জোগান করতে পারেননি মা। সে যে একেবারে ‘আলাদা’। গ্রামের লোকেরা তাকে তাড়া করে, ঢিল ছোঁড়ে। তাদের উদ্দেশে অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে এলি। মাইক্রোসেফালি নামের এই বিরল রোগে ভোগা বাচ্চাদের মাথা শরীরের তুলনায় অনেকটাই ছোট থাকে। এই কারণে ছোট থেকে সে কথাও বলতে পারে না। ফলে সব মিলিয়ে দ্রুতই সকলের বিদ্রুপের শিকার হয়ে ওঠাটা যেন ভবিতব্যই হয়ে ওঠে।
মায়ের আক্ষেপ সন্তানকে স্কুলেও পাঠাতে পারেননি তিনি। পরিবারের কোনও উপার্জনও নেই সেই অর্থে। তার কথা শোনার পর এবার ওই চ্যানেলের পক্ষেই পদক্ষেপ করা হয়েছে এলি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। খোলা হয়েছে ‘গোফান্ডমি’ নামের এক পেজ। সেই পেজে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে লেখা হয়েছে, ‘এই একলা মা ও তার সন্তানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসুন। কোনও উপার্জন নেই। তাই খাদ্যের অভাবে ভুগছে পরিবারটি। এই তরুণটিকে জঙ্গলে গিয়ে ঘাস খেতে হয় খিদের তাড়নায়। আসুন এই ছেলেটি ও তার মায়ের জীবন বাঁচাই।’
এই আবেদনে মিলেছে অভূতপূর্ব সাড়া। এরই মধ্যে উঠে গিয়েছে প্রায় ৪ হাজার ডলার। বহু মানুষের আবেগপ্রবণ মন্তব্যও রয়েছে পেজে। তার মধ্যেই একজন লিখেছেন, ওর মধ্যে কী বিশেষত্ব আছে, সেটা কেবল আবিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায়। ঈশ্বর নিশ্চয়ই ওর মধ্যে কোনও বিশেষ গুণ দিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button