খেলা

জিম্বাবুয়েকে জয় উপহার দিয়ে বিদায় নিলেন মাসাকাদজা

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত খেলতে থাকা আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। আর এ জয়ের মূলনায়ক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তার ৪৭ বলে ৭১ রানের ঝলমলে ইনিংসে ভর করেই উড়তে থাকা আফগানদের মাটিতে নামিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিং করতে নামে আফগানিস্তান। ওপেনিং জুটিতেই ৮৩ রান তোলেন দুই আফগান ওপেনার গুরবাজ ও হজরতুল্লাহ জাজাই। ২৪ বলে ৩১ রান করে জাজাই বিদায় নেয়ার পর জিম্বাবুয়ের পেসার টিনোটেন্ডা মাতুমবোজি ও ক্রিস এমপোফুর বোলিং তোপে ১২৪ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে আফগানরা।
শেষদিকে আফগানদের রানের চাকা আটকে রাখার পাশাপাশি আরও ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ১৫৫ রানে থামিয়ে দেন জিম্বাবুয়ে বোলাররা। আফগানদের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান আসে গুরবাজের ব্যাট থেকে ৬১ রানের ইনিংসটি ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো।

ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে ব্যাট করতে নামার আগে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সতীর্থদের অভিনন্দন

বল হাতে ৪ ওভারে ৩০ রান খরচে ৪ উইকেট নিয়েছেন এমপফু। ২ উইকেট গেছে মাতুমবোজির দখলে। আর ১টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন জার্ভিস ও শন উইলিয়ামস। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বল হাতে ৪ উইকেট তুলে নেয়া এমপফু।
১৫৬ রানের লক্ষ্যে নিয়ে ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক মাসাকাদজা যখন মাঠে নামছিলেন দলের সব খেলোয়াড় তাকে গার্ড অব অনার দিলেন। শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন আফগান খেলোয়াড়রাও। ৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি খেলে যখন বিদায় নিলেন তখন জয় থেকে আর ৪৬ রান দূরে জিম্বাবুয়ে। ৪৯ বলে শেষ ৮ উইকেট নিয়ে এ কাজটি খুব কঠিন ছিল না জিম্বাবুয়ের জন্য। আর সতীর্থরাও কোন অঘটনের জন্ম দেননি। মাসাকাদজার দেখানো পথে হেঁটেছেন তারা। চাকাভা ও শন উইলিয়ামসের ব্যাটে ৩ বল বাকী থাকতেই সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি।
ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসটি স্মরণীয় করে রাখতে এদিন শুরু থেকেই বিধ্বংসী ছিলেন মাসাকাদজা। চার মেরেছেন ৪টি আর ছক্কা ৫টি। মাত্র ৪২ বলেই আসে তার ৭১ রান। ওপেনার ব্রান্ডন টেইলরের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি, এরপর রেজিস চাকাভার সঙ্গে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৭০ রান। তাতে জয়ের শক্ত ভিত পেয়ে যায় দলটি। দারুণ ব্যাট করেছেন চাকাভাও। ৩২ বলে ৩৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। মুজিব উর রহমান ছাড়া আফগানদের আর কোন বোলার তেমন ঝামেলায় ফেলতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের।
এর আগে আফগানিস্তানের সঙ্গে আটবার মোকাবেলা করেছে জিম্বাবুয়ে। তার কোনোটাতেই জয় পায়নি দলটি। নবম বারে এসে জয় পেলেন। আর জয় পেলেন ওই বিদায়ী অধিনায়কের হাত ধরে। এমনকি বিশ্বরেকর্ড গড়া আফগানদের জয়ের ধারাও থামালেন তারা। অধিনায়কও বিদায় নিলেন হাসি মুখে। তবে শেষ বেলায় কিছুটা আফসোস তারা করতেই পারে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সে ম্যাচে যদি সেদিন আফিফ হোসেন ধ্রুব অতিমানিবিক সে ইনিংস না খেলতেন। তাহলে ফাইনালের দৌড়ে খুব ভালোভাবেই টিকে থাকতে পারতেন তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button