প্রবাস

জাপানীরা কেমন পর্ব–১৫

হাসপাতালটিতে এসে যে জার্নালিষ্টটি কথা বলছিলেন তাকে আমি দেখতে পাইনি। তার কঠস্বর শুধু শুনেছি। নার্স বলেছে তিনি একজন জার্নালিষ্ট। জার্নালিষ্টের অভিযোগ যে সত্য তা বুঝার কারো বাকি নেই। কারণ, এ হাসপাতালটিতে সবাই জাপানীজ। আর, রোগীদের মাধ্যে একমাত্র আমি একজন বিদেশি। কিন্তু জাপানীদের সাথে কয়েক দশক চলাফিরা করে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। আমার চেহারা বা বর্ণ নিয়ে কোন কমপ্লেক্স নেই আমার।
আমার বা দিকের বেডে তানাকা। মাঝে মাঝে শিস দেওয়ার মতো একটি শব্দ বের হয় তার মুখ থেকে। এখন সে একজন বিতর্কিত রোগী। তার নাম, জন্মতারিখ নিয়ে ডাক্তার এবং নার্স দ্বিমত প্রকাশ করছেন। কিন্তু সেদিকে তানাকার দৃষ্টি নেই। তিনি তার মতো আছেন। আর তার মুখ থেকে তার অজান্তে শিষ দেয়ার মতো শব্দ বের হচ্ছে।ত্রিশের কোঠায় যে ডক্তারের বয়স তিনি এসে বললেন, ‘এই শিষ দেওয়ার যে শব্দ বের হয় এটাই আপনার অসুস্থতার কারণ। আপনার দেহে যে পরিমাণ অক্সিজেন কঞ্জিউম করার প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক কম অক্সিজেন আপনার দেহ গ্রহণ করছে। তাই শিস দেওয়ার শব্দ এমন রোগীদের মুখ থেকে বের হয়!’
ডাক্তার তার দেহে অক্সিজেন এর পরিমাণ মাপার জন্য আঙ্গুলে আংটা পরালেন। বললেন, এটি আপনি খুলবেন না।
এমন সময় লক্ষ করলাম অনুরূপ একটি আংটা আমার আঙ্গুলেও লাগানো রয়েছে। এটির সাথে তার লাগানো আছে সে তার একটি যন্ত্রের সাথে লাগানো। নার্স যতোবার আসে ততোবার সেটি ঠিক আছে কিনা দেখে। তানাকা এবং আমার নাকেও নলের মাধ্যমে অক্সিজেন অনবরত সরবরাহ করছে। তাই হয়তো আমরা দু’জন রোগী বেঁচে আছি। একেই বলে লাইফ সাপোর্ট। বুকে তো অনেকগুলি তার লাগানো আছে। তদুপরি উভয় হাতে রয়েছে স্যালাইন এর বিদ্ধ সুঁই।
তানাকার সাথে আমার ব্যতিক্রম রয়েছে যদিও তার রোগের নাম জানিনা। কিন্তু তাকে নিয়মিত লাঞ্চ ডিনার দিচ্ছে। শুধু আমাকে নলের মাধ্যমে পেটে লিকুইড খাদ্য দিচ্ছে। তানাকা যখন লাঞ্চ খায় শব্দ শুনে মনে হয় খুব মজা করেই খায়। মাঝে মাঝে খাবার ভাল কি মন্দ তার উপরও মন্তব্য করে। তা শুনে মনেমনে বললাম, ‘তানাকা আমার চেয়ে ভালই আছে। সে হয়তো আমার চেয়ে আগেই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরবে। সে ডাক্তার আর নার্সদের সাথেও ঝগড়া করে। তার বিষয় হলাম আমি। সে নার্সদের সতর্ক করে দিয়ে বলল, ‘এ বিদেশি রুগীর প্রতি যদি অবহেলা কর তা হলে তোমাদের অবহেলার কথা আমি সংবাদিককে বলে দিবো। আমি ভালমতো জানি কোথায় কমপ্লেইন করতে হয়। মেডিক্যাল বোর্ডেও আমি কম্পপ্লেইন করবো!’
নার্স তার কথা ডাক্তারকে বললে ডাক্তার আসেন। তখন তানাকা ্ডাক্তারকে বলল, ‘আমাকে বরং এম্বুলেন্সে আমার কাওয়াগুয়ের অফিসে পাঠিয়ে দিন! আপনাদের ব্যবহার আমার ভাল লাগে না।’
ডাক্তার অনুচ্চ কন্ঠে তাকে থাকিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তানাকা সান, ইতিমধ্যে তোমার দু’বার হার্ট ফেল হয়েছিল। AED শক্‌ দিয়ে তোমার হার্ট রীদম চালু করেছি। ঘরে ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থা নয় তোমার!’ ( ‘AED’ যন্ত্র হল ‘Automated External Defibrillators.’ হঠাৎ কারো হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে গেলে এ যন্ত্রের মাধ্যমে ইলেক্ট্রিক শক বিশেষ কায়দায় লাগিয়ে হৃদপিন্ড আবার চালু করা যায়।)
আমি ডাক্তারকে বললাম, ‘তাকে খাবার দিচ্ছেন আমাকে দিচ্ছেন না কেনো?’
হাসলো ডাক্তার। বললেন, ‘তোমার অবস্থা আরো উন্নত হলে খাবার দেওয়া হবে।’
তখন লক্ষ করলাম যে আমার বেডের নিকট একটি AED যন্ত্র রাখা আছে। সেটি দেখে চিন্তায় পড়ে গেলাম। ভাবলাম হয়তো আমার তেমন কিছু হলে সেটা ব্যবহার করবে।
তানাকা আবার কথা বলল, “ আমার একটি কথা শুনবেন ডাক্তার!”
ডাক্তার তার বেডের নিকট গেলেন। তখন তানাকা বলল, ‘আপনাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা আমার ভাল লাগছে না। আমি ঘরে ফিরে যাবো!’
ডাক্তার বললেন, ‘ঠিক আছে, তাই হবে।’
কয়েকজন নার্স সঙ্গে নিয়ে এসে তানাকার বেডের উপর ষ্টিলের ফ্রেম দিয়ে দু’তলা পাল্কীর মতো অভিনব আকৃতির একটি কাঠামো তৈরি করলেন। তিনি হাত বাড়ালে তার হাতে ষ্টিলের ফ্রেমগুলি অলৌকিক ভাবে কোথা থেকে চলে আসে। একাজে নার্সগুলি তাঁকে সাহায্য করল। এটি তৈরী করতে তাদের দশ মিনিট লাগলো মাত্র।
japani
এবার ডাক্তার তানাকাকে বললেন, ‘তোমাকে নেওয়ার আগে একটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে। নাহলে পথে কিনা কী হয় বলা যায়না।’
ডাক্তার তাকে একটি ইঞ্জেকশন দিলেন। তারপর সব নীরব। তানাকা এখন ঘুমে অচেতন। তারপর নার্সরা এসে ফ্রেইম খুলে নিয়ে গেল। তানাকা তখন নাক ডাকিয়ে বেডে ঘুমাচ্ছে!
আজ আমার পুত্রটি আমাকে দেখতে এল। তাকে দেখে আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘প্লেনে করে এলি?
কোথায় উঠলি, সাকুরার বাসাতে?’
বলল, ‘তার বাসা থেকে ড্রাইভ করে এসেছি।’
কিন্তু এদ্দূর রাস্তা কেমনে চিনলি?
বলল, নেভিগেটর সেট করেছিলাম।
তাই নাকি। খুব ভাল হল। এমন সময় তার মা এলো। সে তার মাকে বলল, ‘বাসাতে সাংবাদিক গিয়েছিল। বাবার অসুখের ব্যাপারে অনেককিছু জিজ্ঞাসা করল!’
‘আর কেউ খুঁজ নিতে গিয়েছিল? তার মা জানতে চাইল।
সে একজন পরিচিত প্রবাসীর নাম বলল। সে প্রবাসী নাকি তাকে বলেছে, ‘পারলে আমিও তোমার বাবাকে দেখতে যেতাম! কিন্তু কানাডা অনেক দূরে!’
আমার ছেলেটি স্বভাবে শান্ত কিন্তু বদমেজাজি। ঘরে সারাক্ষণ টিভি গেইম খেলে। একটি কোম্পানীতে সে চাকুরী করতো কিন্তু তিন বছর পর চাকুরী ছেড়ে ঘরে ফিরে এসেছে। আমাকে যখন চারজন লোক এম্বুলেন্সে দু’তলা থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে সে তখন তার রুম থেকে বের হয়েছে বলে মনে হল না! আমার এ পুত্র সন্তানটির নাম বনি।
সে এবার কথা বলল, ‘জানো, হাসপাতাল গার্ডেরা গেইটের বাইরে আমাকে কয়েক ঘন্টা বসিয়ে রেখেছে।’
কেনো? জানতে চাইলাম।
বলল, ‘ অপেক্ষা করতে বলে কয়েক ঘন্টা বসিয়ে রাখল!
আমার স্ত্রীকে লক্ষ করে বললাম, ‘তুমি যখন আমাকে দেখতে আসো তোমাকেও এমন ভাবে অপেক্ষা করতে বলে কি?
বলল, ‘মাঝে মাঝে বলে কিন্তু তাদের উপেক্ষা করে আমি ঢুকে যাই।’
বললাম, ‘রোগীকে দেখার সময় আছে। নির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেছে কি?’
‘সকাল দশটার পরে রোগী দেখার আসার নিয়ম বলেছে!’
বনি বলল, ‘আমি তো বরাবর দশটায় এসেছি, আমাকে ২ ঘন্টা বসিয়ে রাখল কেন?’
তার কথার কোন উত্তর দিলনা আমার স্ত্রী। কিন্তু আমি নতুন এক ভাবনায় পড়লাম। এমন তো হবার কথা নয়। জাপানের হাসপাতালের নিয়ম কানুন কতো সুন্দর। অথচ, আমার সাথে দেখা করতে তাদের বাধা দেয় কেন?
বনিকে বললাম, ‘আমার অবস্থা তো দেখলি। ভাল হয়ে ঘরে যেতে পারবো কিনা জানিনা।’
আমার কথা শুনে সে কতোক্ষণ কাঁদল!
বললাম, ‘আমি হয়তো আর কাজ করতে পারবো না। এখন সংসার তোর হাতে ন্যস্ত। ঠিক মতো কাজ কর্ম কর!’
কিছুক্ষণ পর বনি চলে যাবার আগে বলল, ‘কাল আবার আসবো!’
প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর তানাকার ঘুম ভেঙ্গেছে। তার কথা শুনতে পাচ্ছি। বলছে, “তারা আমাকে নিয়ে না গিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল! তাইনা মুহাম্মদ সান?
বললাম, “তোমার প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো না। ডাক্তার আর নার্সরা মিলেতো ষ্টিলের ফ্রেইম দিয়ে তোমার জন্য অভিনব দু’তলা পাল্কী বানিয়েছিল।”
“হুম, বুঝলাম। আমার সাথে চালাকি করছে তারা!’
সন্ধ্যার দিকে তানাকার জন্য খাবার এল। তানাকাকে উঠে বসতে বলল। কিন্তু তানাকাকে দু’জন নার্স ধরে না বসালে সে উঠে বসতে পারে না। এতোই দুর্বল সে।
নার্সদের দেখে তানাকা রেগে গেল। বলল, ‘তোমাদের খাবার আমি আজ থেকে খাবনা। নিয়ে যাও এসব আমার সন্মুখ থেকে।’
Hospital Food
নার্স দু’জন নরম কন্ঠে বলল, ‘তানাকা সান তুমি উঠে বসতে পারো না। তোমার দেহে শক্তি নেই। অথচ তুমি অনর্থক রাগারাগি করছো! এখন খাবার খাও। না খেলে দেহে শক্তি ফিরে পাবে না!’
মনে হল তানাকা তাদের কথার অর্থ বুঝল। সে খাবার কিছু খেয়ে বলল, ‘মোটেও স্বাদ লাগে না। নিয়ে যাও এগুলি!’
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে তানাকাকে বললেন, ‘ তোমার নাম মিঃ সাতো, তাইনা? আমরা তোমার ব্যাপারে তদন্ত করেছি। তুমি নাম পাল্টিয়ে এখানে এডমিশন নিয়েছো। আর, তোমার বয়স ৪২ নয়, তোমার বয়স হল ৮৪ বৎসর! তুমি আর বাঁচলে বড়জোর পাঁচ বছর বেঁচে থাকবে। কেন তবে এমন মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছো!’
ডাক্তারের কথা শুনে আমি বিস্মিত হলাম। বলেকি! তানাকা সানের আসল নাম সাতো সান! আর বয়স হল তার ৮৪ বৎসর ৪২ নয়! দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে আজ পর্যন্ত আমি তার চেহারা দেখিনি। নইলে তার বয়স আন্দাজ করতে পারতাম!
ডাক্তারের কথা শুনে সাতো সান, ওরফে তানাকা, একদম চুপ করে রইল! কিছুক্ষণ কোন কথা বলল না।
ডাক্তার নার্সদের তার রেকর্ড বুক আবার শুদ্ধ করে লিখতে আদেশ দিয়ে চলে গেলেন!
পরের দিন রোক্সানা তার স্বামি জাহাঙ্গীরকে নিয়ে এল। রুমে ঢুকে প্রথমে কথা বলল জাহাঙ্গীর। বলল, ‘আমাদের হাসতালে ঢুকতেই দিতে চায়নি, মামা। বাধ্য হয়ে আমি পুলিশ নিয়ে এসেছি।’
এমন সময় এই হাসপাতালের ক্যানাডা ব্রাঞ্চের প্রধান, তিনি একজন মহিলা ডাক্তার, আমাকে দেখতে আসলেন। তিনি আমার দিকে চেয়ে মৃদু হাসলেন। তারপর বললেন, ‘তোমাকে আগে না দেখলেও তোমার কথা শুনেছি। আমি এখানের চীফ এডমিনিস্ট্রেটর এবং ডাক্তার! তুমি আমাকে চিনতে পেরেছো কি?’
তার কথা শুনে বিস্মিত না হয়ে পারলাম না। আমি সাধ্যমত তাঁকে চিনার চেষ্টা করছিলাম। কোথায় যেনো এমন চেহারার এক মহিলা ডাক্তারকে দেখেছিলাম। সেকথা স্মরণ করার চেষ্টা করতে লাগলাম!
মহিলা তখনো আমার দিকে চেয়ে হাসছেন! আমি তার হাসির কী অর্থ হতে পারে বুঝার চেষ্টা করলাম।
তারপর আমি বললাম, ‘আপনি ডাক্তার কিমুরা নন কি?’
বললেন, ‘ধন্যবাদ! ঠিকই চিনেছো আমাকে। তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি মাঝে মাঝে এসে তোমাকে দেখব। উপরের তলায় আমার অফিস!’
ডাঃ কিমুরা হলেন জাপানের অন্যতম বৃহত্তম এই হাসপাতালটির প্রধান পরিচালকের মেয়ে। দূর থেকে একবার তাকে দেখেছিলাম। তার বাবার সাথেও একবার আমি কথা বলেছিলাম। মনে হয় সেদিন তাকে দেখেছিলাম।
এই সময়ে একজন নার্স ডাঃ কিমুরার কানেকানে ফিস্‌ফিস্‌ করে বলল, “চারজন ‘হোয়াইট’ পুলিশ অফিসার এসে নার্সদের অনেক কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করছেন!’
ডাঃ কিমুরা বললেন, ‘কারণ কি! পুলিশকে খবর দিল কে?’
নার্সটি জাহাঙ্গীরকে দেখিয়ে বলল, ‘ঐ লোকটি।’
‘কেন?’
তাকে গার্ড নাকি হাসপাতালে ঢুকতে মানা করেছিল। নার্সটি জবাব দিল।
কিন্তু নার্সটি পুলিশ অফিসার চারজনকে ‘হোয়াইট’ বলেছিল কেন বুঝতে পারলাম না। কারণ, তাদের আমি দেখছিলাম। তাদের চেহারা হোয়াইটদের মতো নয়। তারা মঙ্গোলিয়ান রেইসের পুলিশ! খুব সম্ভবত জাপানীরা বর্ণ কমপ্লেক্সে ভোগছে বলে এমন বলেছে। তারা নিজেদের হোয়াইটদের সমতুল্য ভাবে। যদিও তাদের চেহারায় ব্যাপক ব্যতিক্রম রয়েছে। মনে করলাম এটা সম্ভবত তাদের এক প্রকার কমপ্লেক্স হবে!
পরের দিন বিকালে বনি আবার এল। বলল, ‘আজ সকাল দশটা থেকে চারটা পর্যন্ত আমাকে অনর্থক বসিয়ে রেখেছে। সে যাই হোক, এ হাসপাতালের নিয়ম কানুন আমার পছন্দ নয়। আগামি কাল জাপান ফিরে যাচ্ছি।’
তারপর আফ্রিকান ক্যানাডিয়ান হবে এমন একজন শ্যামবর্ণের হ্যান্ডসাম ছেলেকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। একজন নার্স তাকে দেখে বলল, ‘এক তারিখে তোমার যোগদানের দিন। আজ কিজন্যে এসেছো?
বুঝলাম এ হল সেই নন জাপানীজ যার এ হাসপাতালে জয়েন করার কথা। তার বয়স ২২ এর মতো হবে। ছেলেটি মৃদু হেসে জবাব দিল, ‘ তা আমি জানি। আজ আমি এসেছি হাসপাতালের সবাইর সাথে পরিচিত হতে। দয়াকরে সবার নিকট আমাকে পরিচয় করিয়ে দিবেন।’
সে একজন পুরুষ নার্স। করিডোর থেকে সে আমাকে দেখে আমার বেডের কাছে এসে দাঁড়ালো। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তুমি কি জাপানী ভাষা জানো? এখানে কেউ জাপানী ভাষা ছাড়া অন্য ভাষাতে কথা বলতে পারে না।’
বলল, ‘ হ্যাঁ, তিন মাসের ট্রেনিং নিয়েছি। কনভার্সন্যাল জাপানীজ আমি জানি। বাদবাকি কাজতো সবার একই রকম। সেগুলি আমি জানি।’
জানতে চাইলাম, ‘তোমার ঘর কি এ হাসপাতাল থেকে দূরে?’
বলল, ‘প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে। আমি ট্রেনে আসা যাওয়া করবো।
দু’দিন পর ছেলেটি কাজে যোগদান করল। দেখলাম অতি দক্ষতার সাথে সে অন্যান্য নার্সদের পাশাপাশি কাজকরে যাচ্ছে। তাকে কেউ কিছু শিখিয়ে বা বলে দিচ্ছে না!

Nursing staff help feed elderly patients at the Senen General Hospital in Tagajo, Miyagi Prefecture, Japan, Sunday, March 20, 2011. The hospital has been without power and running water since the March 11 tsunami which struck the east coast of Japan. (AP Photo/Mark Baker)
Nursing staff help feed elderly patients at the Senen General Hospital in Tagajo, Miyagi Prefecture, Japan, Sunday, March 20, 2011. The hospital has been without power and running water since the March 11 tsunami which struck the east coast of Japan. (AP Photo/Mark Baker)

জাহাঙ্গীর পরের দিন রোক্সানাকে সঙ্গে নিয়ে এল। এবার তাকে কেউ বাধা দিলনা। ডাক্তার ও নার্সগণ তার দিকে বিশেষ দৃষ্টিতে তাকাল। সম্ভবত প্রথমবার তাকে গার্ডেরা বাধা দেওয়ায় সে হাসপাতালে পুলিশ নিয়ে এসেছিল! তাই এবার তাদের কেউ বাধা দেয়নি এবং তাকে তারা কিছুই বলল না!
রোকসানা ও জাহাঙ্গীর কোরান পড়ে আমার মাথায় মুখে ফু দিচ্ছে। এক সময় জাহাংগীর বলল, “মামা
যেখানে আপনি কাজ করেন সবাইকে বলে দিয়েছি যে আপনি অসুস্থ। সে ব্যাপারে কোন চিন্তা করবেন না! আর আপনাকে এখান থেকে যেমন করেই হোক বের করে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবো! কারণ, এ হাসপালের ষ্টাফদের ব্যবহার ভাল নয়!’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button