sliderউপমহাদেশশিরোনাম

জাপানজুড়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে ‘হিকিকোমোরি’ সংক্রমণ

জাপানজুড়ে ব্যাপক হারে বেড়েছে ‘হিকিকোমোরি’ সংক্রমণ। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের অন্তত ১৫ লাখ কর্মক্ষম মানুষ হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত।

হিকিকোমোরি এমন এক সমস্যা, যাতে মানুষ সম্পূর্ণভাবে সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। লোকজনের সাথে মেলামেশা ত্যাগ করে সমাজবিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে চায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য অনেকাংশে দায়ী মহামারি। জাপানে এ সমস্যা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু মহামারি ও ওই সময়ের নিভৃত জীবন তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

হিকিকোমোরি শব্দটি মূলত অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়। এ ‘রোগের’ উপসর্গ হলো, সবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া। দিনের পর দিন, কখনো বছরের পর বছরও বাড়ির চৌহদ্দিতে আটকে থাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সমাজব্যবস্থার চাপেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যেমন শিক্ষাক্ষেত্রে বিশাল প্রত্যাশা, ভয়ানক প্রতিযোগিতা এবং ক্রমে একা হয়ে পড়া। এর থেকে মনে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, জমছে দুঃখের পাহাড়। যার শেষ হয় সমাজের প্রতি আতঙ্কে।

প্রাথমিকভাবে এক-দু’জন মানুষ হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সংখ্যা বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে তার প্রভাব গোটা সমাজে পড়তে শুরু করে। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিক ক্ষতির পাশাপাশি লড়তে হচ্ছে অর্থনৈতিক জটিলতার সাথে। কারণ, তার কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে ব্যক্তিগত জীবনে কোনো সম্পর্ক স্থায়ী হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে চললে তার প্রভাব বিশালাকার ধারণ করবে। দেশে জন্মহার ভয়ানকভাবে কমবে, বার্ধক্য বাড়বে। ক্রমে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক বলে মনে করছে সরকার যে বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে।

গত বছর নভেম্বর মাসে এ নিয়ে সমীক্ষা করেছিল জাপানের মন্ত্রিসভার দফতর। ১০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ৩০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এই সমীক্ষায়। দেখা গিয়েছে, ১৫ থেকে ৬২ বছর বয়সীদের মধ্যে দু’ভাগ হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে এই সমস্যা আরো বাড়ছে। আগামী জুন মাস থেকে টোকিয়ো প্রশাসন অনলাইন মেটাভার্সে বিভিন্ন সামাজিক জমায়েতের ব্যবস্থা করবে। সেখানে হিকিকোমোরি আক্রান্তরা অন্যদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, টোকিয়োতে অন্তত নয় হাজার মানুষ হিকিকোমোরি আক্রান্ত। এর মধ্যে এমন অনেক পড়ুয়া রয়েছে, যারা স্কুল-কলেজে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে!

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button