আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

জাতিসঙ্ঘ তথ্যানুসন্ধান মিশন মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন
রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তদন্তে জাতিসঙ্ঘ তথ্যানুসন্ধান দল বাংলাদেশে এসেছে। আগামীকাল থেকে কক্সবাজারে তারা মাঠ পর্যায়ে এসব অভিযোগের তদন্ত করবে। বিশ্ববাসীর বিবেচনার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উত্থাপন করা হবে।
রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে গত ২৪ মার্চ জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিল একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক মারজুকি দারুসম্যানকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই মিশন গঠন করা হয়। মিশনের অন্য দু’জন সদস্য হলেন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রাধিকা কুমরাস্বামী ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ক্রিস্টোফার ডোমিনিক সিডোটি। মিশনের সব সদস্যই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
মিশনটি রাখাইন রাজ্যে নির্বিচার আটক, নির্যাতন, অমানবিক অত্যাচার, ধর্ষণসহ অন্যান্য ধরনের যৌন নিপীড়ন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সংক্ষিপ্ত বিচারে হত্যা, গুম, জোর করে বাস্তুচ্যুত এবং সম্পদ ধ্বংসের তদন্ত করবে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের পূর্ণ জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং ভিকটিমদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মিশন কাজ করবে।
আগ্রহী ব্যক্তি, গোষ্ঠি বা প্রতিষ্ঠানকে জানুয়ারি ২০১১ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে সংঘঠিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ঘটনাসমূহের তথ্য-প্রমাণ স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনকে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য ও দলিলাদি ffmmyanmarsub@ohchr.org পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব তথ্য ও দলিল গ্রহণ করা হবে। মিশন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে।
গঠনের পর মিশনটি রাখাইন রাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মিয়ানমার সরকার তাদের ভিসা দেয়নি। এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে। মিশনের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথেও আলোচনা করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button