৮০ বছরের এক বৃদ্ধা মহিলা। জীবনের অর্ধেকটা সময় সন্তানদের লালন-পালন করতেই চলে গেছে। কিন্তু শেষ বয়সে এসে সেই সন্তানরাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জীবনে। সন্তানদের কাছে তিনি এখন শুধুই বোঝা।
বৃদ্ধা মাকে তাদের আর প্রয়োজন হয় না। তাই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিয়ে মাকে বাড়ি থেকে রাস্তায় ফেলে আসেন। তিন দিন রাস্তার পাশে থাকার পর বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উথুরী গ্রামের।
জানা যায়, বছরদুয়েক আগে ওই বৃদ্ধার তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে সাইফুল কৌশলে মায়ের ১২ কাঠা জমি লিখে নেন। এরপর থেকে অপর দুই ছেলে মায়ের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি অসদাচরণ শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার ছোট ছেলে সাইফুল তার মাকে মারধর করে বাড়ির সামনের সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রেখে আসেন।
তিন দিন পর্যন্ত সেখানে পড়ে থাকার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শনিবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান ও কালা মিয়া প্রতিবেশীদের সহায়তায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগমকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে শনিবার রাতেই ইউপি সদস্যর সহায়তায় ছেলেদের নামে থানায় অভিযোগ করেন ওই বৃদ্ধা।
পরে পুলিশ রবিবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধা হাজেরা খাতুনের বড় ছেলে আব্দুস সাত্তার ও নাতি তাফাজ্জল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ, পুলিশ ও এলাকাবাসী অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উথুরী গ্রামের মৃত রেসমত আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগমের তিন ছেলে-সাইফুল ইসলাম (৪০), সোহরাব উদ্দিন (৪৫) ও আব্দুস সাত্তার (৫০)। প্রায় ১৬ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার সময় হাজেরা বেগমের নামে ১২ কাঠা জমি লিখে দেন। স্বামী মৃত্যুর পর ছেলেরা হাজেরা বেগমকে কিছুদিন ভরণ পোষণ দেন। এক পর্যায়ে ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম গোপনে বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে ১২ কাঠা জমি নিজের নামে লিখে নেন। এ খবর পাওয়ার পর অন্য ছেলেরা মায়ের ভরণ পোষণ ও খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেন। এই পরিস্থিতিতে হাজেরা বেগম ছোট ছেলে সাইফুলের সাথে খাওয়া দাওয়া করতেন। তবে কিছুদিন পর সাইফুলও তার মাকে ভাত কাপড়ের কষ্ট দিতে থাকেন। তিন বেলার মধ্যে কখনো এক বেলা আবার কোনো কোনোদিন খাবারই দেয়া হতো হাজেরা বেগমকে। খাবার চাইলে উল্টো মাকে মারধর অত্যাচার করতেন সাইফুল। এ অবস্থায় স্থানীয়ভাবে একাধিক বার বিচার সালিশও হয়েছে। কিন্তু মায়ের জমি লিখে নেওয়ায় বিচার সালিশে সাইফুলকেই তার মা হাজেরা বেগমের ভরণ পোষণের দায়িত্ব দেন সালিশকারীরা। তবে সাইফুল বিচার সালিশ না মেনে বৃহস্পতিবার সকালে মাকে মারধর করে বাড়ির সামনে সড়কের পাশে ফেলে আসেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) আবদুল আহাদ খান বলেন, ছেলেদের হাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা এমন নির্যাতিত হবেন বিষয়টি ভাবতেও কষ্ট হয়। হাসপাতালে গিয়ে দুখী ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিয়েছি। পাশাপাশি বৃদ্ধার এক ছেলেসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।




