সিরাজুল ইসলাম,সিংগাইর : দূর থেকে দেখতে ডুপ্লেক্স বাড়ির মতো মনে হলেও এটি একটি সরকারি অফিস। এই অফিস সব সময় থাকে তালাবদ্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা মিলে না । জঙ্গলে ভরেগেছে সদর দরজাসহ পুরো চত্ত্বর। দেখভাল করার মত কেউ না থাকায় সরকারি অফিসটি এখন ভূতুরে বাড়িতে পরিনত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) উপ-সহকারি প্রকৌশলী কার্যালয় সিংগাইর(ক্ষুদ্র সেচ) ইউনিটের গ্রাহকেরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা। পড়েছেন ভোগান্তীতে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের শতকরা ৮০ জন মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আর সেই কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসিনতায় কৃষকেরা প্রতিনিয়ত পড়ছেন বিপাকে। এ যেন দেখার কেউ নেই।
ভুক্তভোগী সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের কাংশা গ্রামের মো.বাবুল হোসেন বলেন,আমি ধান চাষের প্রজেক্টের জন্য বিদ্যুতের সংযোগ নিবো। এ জন্য বিএডিসি অফিসের ছাড়পত্র লাগবে। তার জন্য ৩ মাস যাবৎ ঘুরতে ঘুরতে শেষ। অফিসে কেউ আসে না। ফোন দিলেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
অপর এক সেবা প্রত্যাশী মো.আশরাফ উদ্দিন জানান, আঙ্গারিয়া মহল্লার সমবায় সমিতির আওতায় গভীর নলকূপের ড্রেন সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করি। সেটি বিএডিসি অফিসে তদন্ত দিলে তারা কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। এ অফিসে দীর্ঘদিন এসেও কাউকে না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
অফিস সংলগ্ন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন,অনেক কৃষক এই অফিসে কাজের জন্য আসেন। তালাবদ্ধ থাকায় তারা ঘুরে যান। তিনি আরো বলেন, অফিসার বা কর্মচারী কেউ আসেন না। সব সময় তালা দেয়া থাকে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। অফিসের আশে-পাশের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, বেশকিছু দিন যাবৎ অফিসে তালা ঝুলানো থাকায় ভিতরে জঙ্গঁলে পরিপূর্ন হয়ে গেছে। অফিসের কোন কার্যক্রম দেখছেন না বলেও জানান তারা।
জানাগেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কৃষি মন্ত্রনালয় সিংগাইর উপজেলায় উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের জন্য একটি অত্যাধুনিক দু’তলা ভবন নির্মাণ করে দেন সরকার। ভবন নির্মাণের পর কিছুদিন অফিসে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকলেও পরবর্তীতে তার দেখা মিলছে না। দেখভালের জন্য নেই কোন কর্মচারী। এতে অফিসের প্রবেশদ্বারসহ পরো আঙ্গিনা জঙ্গলে পরিনত হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রতন কুমার সরকার বলেন,সিংগাইর,মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া ৩টি উপজেলা আমার দায়িত্ব। তারপরও সপ্তাহে ২-৩ দিন অফিসে আসেন বলে দাবী করেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো.কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, বিএডিসি’র উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে ভালো জানা যাবে। অতিরিক্ত দায়িত্বে যিনি আছেন ৩ মাস অন্তর অন্তর সেচ বিষয়ক সভা করেন। আমার জানামতে তিনি অফিসও করেন।




