sliderস্থানিয়

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুরের তিন লড়াকু ছাত্র নেতা

রতন রায়হান, রংপুর: বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ও অধিকার ভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের আংশিক কমিটি আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক যৌথ স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুর জেলার তিনজন পরীক্ষিত ও সংগ্রামী ছাত্রনেতার অন্তর্ভুক্তি উত্তরবঙ্গের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন কমিটিতে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন রংপুরের কৃতি সন্তান ইমরান আহমেদ ও রাকিবুল ইসলাম বাপ্পি। পাশাপাশি সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাকিবুল ইসলাম শিশির।

‎দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এই তিন নেতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করেছেন বলে সংগঠনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাদের অন্তর্ভুক্তিতে রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও দাবিদাওয়া জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুরের তিন নেতার অন্তর্ভুক্তি শুধু সাংগঠনিক স্বীকৃতিই নয়, বরং উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বের প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা ও নিরাপদ ক্যাম্পাস ইস্যুতে রংপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে ছিল। নতুন নেতৃত্ব সেই শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর রংপুরের এই তিন ছাত্রনেতা শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আপসহীন থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

‎এ বিষয়ে গনঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও রংপুর ১আসনের এমপি পদপ্রার্থী হানিফ খান সজিব বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদ বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। নতুন এই নেতৃত্ব শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, রংপুর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি অঞ্চল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রংপুরের এই শক্ত প্রতিনিধিত্ব উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়ক হবে। আমি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই এবং আশা করি তারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা পালন করবেন।

‎কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ বলেন,কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করায় সংগঠনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। বর্তমানে দেশের শিক্ষাঙ্গনে যে সংকট বিরাজ করছে, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রংপুরসহ সারাদেশের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় থাকব।
‎১৮ পরবর্তী বাংলাদেশের বিবেক বাংলাদেশ ছাত্রধিকার পরিষদ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে নিরাপদ সড়ক চাই, ভারতের নাগরিকত্ব নিবন্ধন আইন এনআরসি, সিএএ, দেশের ভেতরে মোদী বিরোধী আন্দোলন, প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী আন্দোলন চাল, ডাল, তেলের লাগামহীন উর্ধগতির প্রতিবাদে আন্দোলন, দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা সহ দেশের সকল ইস্যুতে দেশের বিবেক হয়ে কথা বলেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ছাত্র অধিকার পরিষদের তৈরি। যে দায়িত্ব সংগঠন আমাকে দিয়েছে তা খুবই কঠিন একটি কাজ তবে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বাপ্পি বলেন,ছাত্র অধিকার পরিষদ বরাবরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে রাজনীতি করে। নতুন এই কমিটির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও লেজুড়বৃত্তিমুক্ত ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠায় আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করব। আমাদের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া।

রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শিশির বলেন, রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক ভিত আরও শক্তিশালী করাই আমার মূল লক্ষ্য। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে তা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলব।

‎নতুন কমিটির অনুমোদনের পর কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আগামী এক বছর মেয়াদে এই কমিটি ছাত্র অধিকার পরিষদকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠনে রূপ দিতে কাজ করবে। বিবৃতিতে তারা বলেন, শিক্ষা উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নই হবে এই কমিটির প্রধান এজেন্ডা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুরের তিন ছাত্রনেতার অন্তর্ভুক্তির খবরে স্থানীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা আনন্দ মিছিল বের করেন এবং বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেন। স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুরের এই শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button