চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল ইসরাইল

ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে। কিন্তু, এই দুই রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন নয়। সাড়ে পাঁচ দশক আগেও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল ভারত এবং ইসরাইল।
১৯৬২ সালে জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল ইসরাইলের সঙ্গে। সেই সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডেভিড বেন গুরিওন। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের সময় ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ইসরাইল। সেই সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ওই বছরের নভেম্বর মাসের ১৮ তারিখ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন জওহরলাল নেহরু। সেই সময় দুই মাস ধরে নেহরু এবং গুরিওনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চিঠির আদান প্রদান হয়। সেই সময় মুম্বইতে(তৎকালীন বোম্বাই) ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত অ্যারি এইলানের মধ্যস্থতায় চলত চিঠির আদান প্রদান।
সব ঠিকঠাক চলছিল। বাধ সাধল ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি শর্ত। ইসরাইলের থেকে যে সকল অস্ত্র ভারতে আনতে হলে পানিপথ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সেক্ষেত্রে জাহাজে ইসরাইলের পতাকা লাগাতে আপত্তি করেছিলেন নেহরু। মধ্য প্রাচ্যের আরব দুনিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। সেই সম্পর্ক কখনই খারাপ করতে চাননি নেহরু। কারণ, ইসরাইলের সঙ্গে সেই সকল রাষ্ট্রগুলির সম্পর্ক কোনো কালেই মধুর ছিল না, এখনো নেই। ভারত-ইসরাইল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চুক্তি করে আরব দুনিয়ার দেশগুলিকে ক্ষুব্ধ হবে। তা বেশ ভালো করেই জানতেন নেহরু। কিন্তু, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিওন প্রত্যাখ্যান করেন নেহরুর প্রস্তাব। ভারতের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দেন, “জাহাজে পতাকা না থাকলে অস্ত্র যাবে না।”
এরপর থেকেই শীতল হতে শুরু করে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক। যদিও তা কখনই একেবারে ছিন্ন হয়ে যায়নি। ১৯৯২ সালে দুই দেশের পক্ষ থেকেই সৌজন্যের বার্তা দিয়ে চিঠি আদান প্রদান করা হয়। এবং এরপর থেকেই ফের নতুন করে উষ্ণ হতে থাকে ভারত-ইসরাইল বন্ধুত্ব। দুই দেশের রাষ্ট্রদূতেরাও এই বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। পর্যটনের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি হয়। এই সকল যাবতীয় চিঠিপত্র সংরক্ষিত রাখা রয়েছে ইসরাইলের রাজধানী জেরুসালেমের আর্কাইভে।




