চিকিৎসা কেন্দ্রের আয়ার মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: দাউদকান্দি ইছাপুর ইবরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আয়া ফাতেমা আক্তার (২০) মৃত্যু ঘটনায় প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে বিচার দাবিতে সোমবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকা বাসী। দুপুরে ইবরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে আশেপাশে দীর্ঘ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। ফাতেমার ভাই অলিউল্লাহ দাবি করেন, তার বোনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের ঘটনায় মৃত্যু বরন করেছে। রোমান শিকদার বলেন, ফাতেমাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গৌরীপুর খিদমা হসপিটালের মালিক দেওয়ান সাইফুল ইসলাম বলেন, ইবরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। সাবেক মেম্বার মালেক মিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও দোষীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুর যায় এবং ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান প্রাতিষ্ঠানিক কাজে বাইরে ছিলেন। এসময় বেশকিছু সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। ইবরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোঃ কাওসার আলম জানান, একই গ্রামের ফাতেমা ইবরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কয়েকবছর ধরে আয়া হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে একটি কেজি স্কুলে পড়ুয়া তাঁর মেয়েকে স্কুল থেকে প্রতিষ্ঠানের বাসায় নিয়ে আসার সময় ফাতেমার হাত থেকে ছুটে ব্যাটারী চালিত অটোতে ধাক্কা লেগে আহত হওয়ার পর ফাতেমাকে বকাবকি করলে সে পরের দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকে। পরেরদিন অন্য স্টাফ ফোনে ফাতেমাকে ইবরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজের জন্য আসতে বলে। এসে সে অন্যদের সাথে জামের ভর্তা খেয়ে অসুস্থতা বোধ করে এবং বমি করে। রাতে ফাতেমার ভাই এসে ফাতেমাকে বাড়ি নিয়ে যায় এবং রাতেই ফাতেমা আরো অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরের দিন ফাতেমা মারা গেলে বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। ফাতেমাকে মারধরের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেফারেন্স এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট দেখলে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশি সূত্র জানায়, ফাতেমা আক্তার মৃত্যু ঘটনায় একটি ইউডি মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যাবে।




