slider

চাকুরীর প্রলোভনে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ভিটেমাটি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে মো. হাসান

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক মো. রায়হান আলীর বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় সব কিছু  হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে মসজিদের অসহায় ইমাম মো. হাসান। স্থানীয়ভাবে সকল শালিশী বৈঠকে হাসানের পক্ষে সিদ্ধান্ত হলেও অত্যন্ত ধূরবাজ রায়হান আলী কোন কিছুর তোয়াক্কা করছে না। সে হাসানের চাকুরী কিংবা টাকা কোনটাই ফেরত দিচ্ছে না। যার ফলে স্থানীয়ভাবে প্রতারক রায়হান আলীর সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হাসান।

অভিযোগে জানা গেছে, জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পারুলিয়া গ্রামের মো.রায়হান আলী চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে একই গ্রামের মসজিদের ইমাম মো. হাসানের নিকট থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সাত/আট মাস পূর্বে স্থানীয় চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। অভিযুক্ত রায়হান আলী ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হওয়ায় ভুক্তভোগী মো: হাসানকে (আবু মুসা) নৈশ প্রহরী নিয়োগ দিবে এই প্রলোভন দিয়ে দুই কিস্তিতে চার লাখ টাকা নেয়। সম্প্রতি ওই মাদ্রাসার নিয়োগ সম্পন্ন হলেও চাকুরী দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে টাকা না দিয়ে নানাভাবে হয়রানী করছেন বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর কাছে বিভিন্ন সময়ের কল রেকর্ড রয়েছে। যা এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

ঘটনার বিবরণে আরও জানা গেছে, এখন সর্বস্ব হারিয়ে ভিটা-মাটিহীন ও ঘর-বাড়ী হারা হয়ে হাসান দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। তিনি সহায় সম্বল হারিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তিনি এ চাকুরীর আশায় চার শতাংশের বসতবাড়ি ও একটি গাভী বিক্রি করে এখন দ্বারে দ্বারে বিচারের আশায় ঘুরছেন অসহায় হাসান। এ ব্যাপারে বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদে শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রায়হান আলীকে একাধিকবার পরিষদ থেকে নেটিশ করা হলেও অতিধূর্ত রায়হান আলী পরিষদে হাজির হননি।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান আলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি সত্য। বিবাদীগণ আইন অমান্যকারী, ঠকবাজ ও প্রতারক শ্রেণির লোক। আমি কয়েকবার গ্রাম আদালতের মাধ্যমে রায়হান আলী গংকে নোটিশ করলেও তারা হাজির হয়নি। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, অসহায় মো.হাসান তার টাকাগুলো ফেরত পেলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button